অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে শান্তির রোডম্যাপে সম্মত তালিবান-যুক্তরাষ্ট্র

সত্যের সৈনিক অনলাইনএশিয়ার যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তানে দীর্ঘ ১৮ বছরের সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে শান্তির রোডম্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হয়েছে তালিবান বিদ্রোহীরা। কাতারের রাজধানী দহায় সদ্য সমাপ্ত সংলাপে প্রথমবারের মতো আফগান সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সম্মতি এসেছে।

যার অংশ হিসেবে গত সোমবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আফগান বিষয়ক বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদ বলেছিলেন, ‘আফগান কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত সামর্থ্যে এবারের দফার আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।’

কর্তৃপক্ষের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘বিবিসি নিউজ’ জানায়, কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক নয়; মূলত এমন একটি চুক্তির ভিত্তিতে বেসামরিক হতাহত বন্ধ এবং ইসলামিক কাঠামোর মধ্যে নারী অধিকার সুরক্ষায় সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

এ দিকে মার্কিন প্রতিনিধি দল এক বিবৃতিতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নিবে বলেও জানিয়েছে। যার অংশ হিসেবে এর সময়সীমা চূড়ান্ত করতে পক্ষ দুটি আরও আলোচনা করবে বলেও জানানো হয়।

এর আগে ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ হারায় তালিবান। মূলত এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। পরবর্তীতে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধের অবসানে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কাতারে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হয় তালিবান। টানা সপ্তম দফার এই আলোচনা গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) শেষ হয়।

অপর দিকে গত সোমবারের এই আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে আফগান নারী নেটওয়ার্কের পরিচালক ও সম্মেলনের প্রতিনিধি ম্যারি আকরামি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যেখানে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো চুক্তি নয়, যা আলোচনা শুরুর একটি ভিত্তি। এর ভালো বিষয় হলো উভয় পক্ষই এতে সম্মত আছে।’

এবারের ‘শান্তির রোডম্যাপ’ শর্তের মধ্যে রয়েছে সকল বাস্তুচ্যুত লোকদের পুনর্বাসন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব বন্ধ করা। পরে দুই পক্ষের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আফগানিস্তান নিজ দেশের মধ্যে আর কোনো যুদ্ধ দেখতে চায় না। সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের অভ্যন্তরীণ এই চুক্তি অত্যাবশ্যক, বর্তমানে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

জাতিসংঘের তথ্য মতে, আফগানিস্তানে গত পাঁচ বছরের সংঘাতে প্রায় ৪৫ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। যার অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ প্রাণ হারায় অন্তত ৫৮১ বেসামরিক। তাছাড়া আহত হয় আরও কমপক্ষে ১২ হাজারের অধিক।

১০ জুলাই ২০১৯ / সত্যের সৈনিক / এমএসআইএস

Leave A Reply

Your email address will not be published.