অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

জলাবন্ধতা জয় করে বস্তায় সবজী চাষ

সন্দীপ কুমার কর্মকার, মনিরামপুর:

জলাবদ্ধতাকে জয় করতে শিখেছে ভবদহ এলাকার চাষিরা। যশোর মনিরামপুরের জলাবদ্ধ এলাকায় বস্তা পদ্ধতিতে সবজী চাষ করে জলাবদদ্ধতাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখালেন মনিরামপুরের ভবদহ নদী পাড়ের কৃষক আবু সাঈদ ও আলী আকবর । ৩৫ শতক পতিত জমিতে এই বস্তা পদ্ধতিতে সবজী চাষ করে তারা এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জলাবদ্ধতা এলাকার মানুষের কাছে তারা দুইজন এখন অনুপ্রেরণার উৎস। ৩০ কেজি মাটির সাথে পরিমান মত জৈবসার, খৈল ও রাসায়নিক সারের মিশ্রণ বস্তায় ভরে প্রায় তিন ফুট উচু করা হয়। কয়েক দিন পর তাতে লাউ, উচ্ছে, করলা, ঝিঙে, পুইশাক, মরিচ, আঁদা, বরবটি, মিষ্টিকুমড়া, রসুন, পিয়াজ ও পেঁপেসহ বিভিন্ন প্রকার সবজীর বীজ অথবা চারা রোপন করা হয়। নতুন এই পদ্ধতিকে বলা হয় বস্তা পদ্ধতিতে সবজী চাষ। জলাবদ্ধতা এলাকার বিভিন্ন ঘের ও পুকুর পাড় অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় বর্ষা মৌসুমে এ পদ্ধতিতে সবজী চাষের আহবান উপজেলা কৃষি অফিসের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ পাড়ের চাষিদের সাবলম্বী করতে শুশিলন নামের একটি এনজিওর মাধ্যমে ১০ জন চাষিকে নতুন এই বস্তা পদ্ধতির উপরে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চাষিরা হলেন, মনোহরপুর ইউনিয়নের পরিমল বিশ্বাস, আলতাফ হোসেন, ভবতোষ মন্ডল, দেবপ্রসাধ, আনন্দ সরকার, আ: রহিম, আলী আকবর ও আবু সাঈদ। এদের মধ্যে আলী আকবর ও আবু সাঈদ দুজনে ৩৫শতক পতিত জমি লিজ নিয়ে প্রায় ৬ মাস পূর্বে শুরু করেন বস্তা পদ্ধতিতে বিষ মুক্ত সবজি চাষ। আবু সাঈদ বলেন, বস্তা পদ্ধতিতে সবজী চাষের প্রাথমিক পর্যায়ে মাটি তৈরি করা হয়। প্রতি বস্তার জন্য ৩০ কেজি মাটির সাথে পরিমান মত জৈবসার, বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার পরিমানে সামান্য সহ খৈল মেশানো হয়। পরে বস্তায় ভরে প্রায় ৩ ফুট উচু করে ৪-৫ দিন রেখে দিয়ে পরে তাতে বীজ বপন করা হয়। কিছুদিন পরে বীজ থেকে চারা গজালে বাঁশ, বাঁশের কুঞ্চি ও সুতো দিয়ে বুনে ভালো জব্দ করে চালা / বান / মাঁচান তৈরি করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ওই ইউনিয়নের খাকুন্দী গ্রামের কৃষক আলী আকবর ও আবু সাঈদ প্রায় ৩৫ শতক পতিত জমি লিজ নিয়ে আধুনিক বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। সেখানে প্রায় দেড় শত বস্তা বসিয়ে বিভিন্ন প্রকার সবজী চাষ করছেন। বস্তায় লাগানো লাউ গাছে বড় বড় লাউ ঝুলছে। শুধু লাউ নয় এর পাশা পাশি তারা উচ্ছে, করলা ও ঝিঙের চাষ করেছেন। চাষি আলী আকবর জানান, শুধু লাউ, উচ্ছে, করলা ও ঝিঙে নয় মাটি গবর সার মিশিয়ে তৈরি করা বস্তায় পুইশাক, মরিচ, আঁদা, বরবটি, মিষ্টিকুমড়া, রসুন, পিয়াজ ও পেঁপের চাষও করা যাবে। তিনি আরও বলেন, শখের বসে আমি এই নতুন পদ্ধতির চাষ করছিনা। ভবদহপাড়ের জলাবদ্ধতাকে হারমানিয়ে বেচে থাকার তাগিদে এই ববস্তা পদ্ধতিতে সবজী চাষ করছি। তিনি জানান, তার এই সবজী ক্ষেত থেকে গত তিন মাসে ৭০ হাজার টাকার বেশি আয় করেছেন। শুশিলন এনজিও’র জেলা সুপারভাইজার তাপস কুমার দাস জানান, এটি একটি নতুন টেকনোলজি। মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ১০ চাষিকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে এই বস্তা পদ্ধতিতে সবজী চাষের গুরুত্ব ও চাষ পদ্ধতি শেখাতে ঢাকায় নিয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ওই ১০ চাষির সবাই কম-বেশি সবজী চাষ করলেও এই পদ্ধতিতে সবজী চাষ করে যে সাবলম্বী হওয়া যায় সেটি প্রমান করে দিলেন চাষি আলী আকবর। তিনি আরও জানান, এই টেকনোলজির মূল বেজ ধরা হল জলাবদ্ধতাকে জয় করা। জলাবদ্ধ এলাকায় মানুষ যেহেতু অনেকটা অসাভাবিক জীবন যাপন করে। একারনে তাদের অন্তত বেচে থাকার জন্য কিছু একটা অবলম্বন আছে সেটা দেখান এবং কিছুই না থাকুক তবুও বসত ভিটা এক দেড় হাত তলিয়ে গেলেও যেন সবজী চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সে দিকে সাবলম্বী করায় এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার জানান, শুশিলন এনজিও’র মাধ্যমে প্রশিক্ষন নিয়ে ভবদহ পাড়ের চাষিরা যে পদ্ধতিতে সবজী চাষ করছে সেটি আমরাও তদারকি করছি। জলাবদ্ধতাকে হারমানিয়ে একটি পরিবার সাবলম্বী হতে আধুনিক বস্তা পদ্ধতিতে সবজী চাষ মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণা যুগাচ্ছে। এখন আমরাও জলাবদ্ধ এলাকার বিভিন্ন চাষিদেরকে এই পদ্ধতিতে সবজী চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করছি।

২৪সেপ্টেম্বর ২০১৮,সত্যের সৈনিক/ময়না মনিরা

Leave A Reply

Your email address will not be published.