অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

শ্রীলঙ্কা বুঝতে পারছে না বাংলাদেশ কেন এমন ঝুঁকি নিল

সত্যের সৈনিক অনলাইন : গামিনি ডি সিলভার প্রশংসা না করে পারা যাচ্ছে না। ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটিং উইকেট চেয়েও পায়নি বাংলাদেশ। গামিনির সৃষ্ট ফাইনালের উইকেটে ব্যাটিং করাটা কতটা কঠিন ছিল, সেটা স্কোরকার্ডই বলে দেবে। সেখানে ঢাকা টেস্টে তো তাঁকে বলাই হয়েছে বোলিং–বান্ধব উইকেট বানাতে। সেটা বানিয়েছেন শ্রীলঙ্কান কিউরেটর। এমনই সে উইকেট, শ্রীলঙ্কার স্পিন–বান্ধব সব পিচে খেলে বড় হওয়া রোশেনও নাকি এমন উইকেট দেখেননি কখনো।

মিরপুরে দুই দিনে মোট ২৮ উইকেট পড়েছে। ফিল্ডারদের হাতে অদৃশ্য মাখন না থাকলে সংখ্যা ৩০ পেরোত যেকোনোভাবেই। এমন উইকেটেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করছেন রোশেন সিলভা। দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো অপরাজিত আছে ৫৮ রানে। এ উইকেট সম্পর্কে ভালো কিছু শোনা গেল তাঁর কাছে শোনা যেত। তো রোশেন কী বলেন এ উইকেট সম্পর্কে? ‘মাঝেমধ্যে শ্রীলঙ্কায় আবহাওয়া খুব বাজে হলে, এমন উইকেট পাওয়া যায়। এ ছাড়া আমাদের ওখানে যখন রাস্তা বানায়, তখন বালির সঙ্গে কিছু একটা মেশায়; তখন একটা রং হয়। শ্রীলঙ্কার রাস্তায় এমন রং দেখা যায় (মিরপুরের উইকেটের রং)! আমরা এ ধরনের উইকেট কখনো পাইনি।’

এমন উইকেটেও শ্রীলঙ্কার লিড তিন শ পেরিয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা ভালো বল করলেও, ব্যাটসম্যানরা এমন উইকেট অনুযায়ী ব্যাট করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কান বোলারদের সামলানোর কোনো প্রচেষ্টা তাঁদের মধ্যে দেখা যায়নি। সফরকারীদের স্পিন আক্রমণ যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো, সেটা ম্যাচের আগেই বলা হচ্ছিল। তাই রোশেনও বুঝতে পারছেন না বাংলাদেশে কেন এমন ঝুঁকি নিল, ‘আমি ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। ভেবেছিলাম, ভালো ব্যাটিং উইকেট হবে। উপমহাদেশে অস্ট্রেলিয়া কিংবা অন্য দেশ এলে আমরা এমন উইকেট বানাই। কিন্তু শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণ তো বেশ ভালো। আমি জানি না কেন ওরা এমন উইকেট দিয়েছে।’

শ্রীলঙ্কান বোলারদের কথা নাহয় বাদই দেওয়া গেল, শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরাও তো এমন উইকেটে খেলে অভ্যস্ত। টেস্টের প্রথম দুই দিনে আরও স্পষ্ট বোঝা গেছে কোন দল স্পিন খেলতে অভ্যস্ত। এ কারণেই তো কোনো স্পিনার নয়, বাংলাদেশের এক পেসারকেই নিয়েই সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি ছিল শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানের, ‘ঘরের মাঠে এ ধরনের উইকেটে খেলে অভ্যস্ত আমরা। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক খেলার চেষ্টা করেছি। আমি একে ভালো উইকেট বলছি না, কিন্তু আমরা জানতাম এখানে বল ঘুরবে। ভাগ্যিস মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম কয়েকটা বলে আউট হইনি আমি। কতটা কঠিন ছিল, নিশ্চয় দেখেছেন!’

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/সত্যের সৈনিক/তুহিন রানা

Leave A Reply

Your email address will not be published.