অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

নেশার টাকা না পেয়ে গরম ইস্ত্রি দিয়ে গাল পুড়িয়ে দিয়েছে পাষণ্ড স্বামী!

মোহাম্মদ হজরত আলী, মুক্তাগাছা প্রতিনিধিঃ নেশার টাকা না দেয়ায় ব্রাককর্মী শাপলার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়েছে তার পাষণ্ড স্বামী হাফিজ উদ্দিন। কখনো বেঁধে, কখনো লাঠি দিয়ে, কখনো গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছেঁকা দিয়ে আবার কখনো বঠি বা দা দিয়ে নির্যাতন করে শাপলাকে। এভাবেই কেটেছে শাপলার বারটি বছর। একমাত্র মেয়ের দিকে তাকিয়ে স্বামীর সব অত্যাচার সহ্য করেছে সে। আশা ছিল এক সময় ভাল হয়ে যাবে স্বামী। নিজে চাকরি করে সুন্দর করে সাজাবে তাদের সংসার। কিন্তু তার সকল স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে স্বামী। গরম ইস্ত্রি  দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তার চেহারা। গরম ইস্ত্রি চেপে ধরায় তার মুখের একাংশ ঝলসে গেছে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে এখন হাসপাতালের বিছানায় অসহ্য ব্যাথায় কাঁতরাচ্ছে। গতকাল শনিবার মুঠোফোনে তার নির্যাতনের ঘটনা এ প্রতিবেদকের কাছে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি তার স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। 

মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের নিমুরিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার আদরের কন্যা শাপলা বেগমকে বারো বছর আগে বিয়ে দেন মুক্তাগাছা শহরের মনিরামবাড়ির নুরুল আমীনের ছেলে হাফিজ উদ্দিনের কাছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নেশার সাথে জড়িয়ে পড়ে। একদিন কাজে গেলে আর পাঁচদিন ঘরে বসে থাকে। এরই মাঝে তাদের ঘরে আসে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। শাপলা নেশাগ্রস্ত স্বামী নিয়ে পড়েন বিপদে। নিরুপায় হয়ে শাপলা বেগম চাকুরি নেন স্থানীয় ব্রাক অফিসে। তার চাকুরির টাকায় চলে সন্তানের লেখাপড়া ও সংসার। এর পরও নেশার টাকার জন্য স্ত্রীর কাছে আবদার হাফিজের। টাকা দিতে না চাইলেই বেধড়ক পেটায় শাপলাকে। কখনো দড়ি দিয়ে বেঁধে আবার কখনো বঠি বা দা দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করে শাপলাকে। এভাবে কেটেছে তাদের বিবাহিত জীবনের বার বছর। এর পরও সে তাদের একমাত্র কন্যা নওরিন আক্তার ঊষার জন্য বারবার স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে অফিসে যাওয়ার সময় শাপলার কাছে নেশার টাকার জন্য চাপ দেয় হাফিজ উদ্দিন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ঘরে থাকা ইস্ত্রি বিদ্যুৎ লাইনে বসিয়ে গরম করে শাপলার ডান গালে চেপে ধরে। তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। ততক্ষনে তার ডান গাল ঝলসে যায়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ক্ষত শুকাতে অনেকদিন সময় লাগবে। এ ঘটনার পর থেকে পাষণ্ড স্বামী হাফিজ উদ্দিন পলাতক রয়েছে।

মনিরামবাড়ির হাতেম আলীসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হাফিজ নেশার সাথে জড়িত। সে নেশার টাকার জন্য বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ নিয়ে একাধিক দেন দরবার পর্যন্ত হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের বেড থেকে শাপলা বেগম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, তার একমাত্র মেয়ে সন্তানের জন্য বারবার নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর সংসারে থাকার চেষ্টা করেছে সে। এর পরও তার গালে গরম ইস্ত্রি চেপে ধরে নির্যাতন করেছে। তিন তার স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। যাতে আর কোন নারী এভাবে স্বামীর কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।

মুক্তাগাছা থানার ওসি আলী আহম্মেদ মোল্লা বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার সাথে জড়িত হাফিজকে ধরার চেষ্টা চলছে।

১৪ জানুয়ারি ২০১৮/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.