বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে গুপ্তচরের অভিযোগ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

জহিরুল ইসলাম খান: সপরিবারে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া মোহাম্মদ আকতার আলম দেশটির সেনাবাহিনীর হয়ে গুপ্তচরের কাজ করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্যাতনের কারনে মায়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায় মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের সাথে আসা মোহাম্মদ আকতার আলমের বিরুদ্ধে মায়ানমার সেনাবাহিনীর গুপ্তচরের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি একটি রোহিঙ্গা পরিবার বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমঘুম ইউনিয়নের তমব্রু কোনাপাড়ার নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে রাতের আধারে মায়ানমারে প্রত্যাবর্তন করার বিষয়টি মায়ানমার সরকার বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করছিলো।এরপর থেকেই সরকার,রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছিলো।

জানা যায় ঐ পরিবারটি বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু কোনারপাড়ার নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নিলেও ভাড়া থাকতেন স্থানীয় নারী ইউপি মেম্বার ফাতেমা বেগমের বাড়িতে। নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও আকতারের অবস্থান ছিল মিয়ানমারের পক্ষে। এ কারণেই ধরা পড়ার আগে তিনি সপরিবারে ফেরত গেছেন বলে মনে করছেন রকরোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, আকতার আলম অন্যান্য রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। তিনি এখানে থেকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের সরকারি-বেসরকারি খবর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে পাচার করতেন। গতিবিধি সন্দেহজনক হলেও তিনি কী করতেন তা ধরতে পারেনি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় প্রশাসন। রোহিঙ্গা নেতা অজুহাত দেখিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রতিদিনই আকতার আলম যোগাযোগ করতেন বলে জানিয়েছেন তমব্রুতে বসবাসরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা।

তমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘রাতের আঁধারে চুরি করে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া আকতার রাখাইনের মংডু শহরের বলিবাজার এলাকার তমব্রু রাইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। তার সঙ্গে রাখাইনে সেনাবাহিনী ও মগদের দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল। এ কারণে তিনি বারবার চেয়ারম্যান হতেন। এরপরও আমাদের সঙ্গে কেন জানি তিনিও পালিয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেন। তবে নো-ম্যানস ল্যান্ডে বেশি দিন থাকেননি তিনি। ক্যাম্পের পাশে ইউপি মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪৫), মেয়ে শাহেনা বেগম (১২), ছেলে তারেক আজিজ (৭), মেয়ে তাহেরা বেগম (১০) এবং গৃহকর্মী শওকত আরা বেগম (২৩)।’

তিনি আরও বলেন, ‘রবিবার সকালে জানতে পারি তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন এবং ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডও (এনভিসি) নিয়েছেন।’
এখন সত্যিই ভাববার বিষয় রোহিঙ্গা পরিবারটি কেনইবা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল আবার কেনইবা রাতের আধারে মায়ানমার চলে গেল।

১৬ এপ্রিল ২০১৮/সত্যের সৈনিক/ইমরান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.