অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

যশোরে বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাঁপ করছে মিন্টু গাজী ও লাল্টু গাজী সিন্ডিকেট

স্টাফ রিপোর্টার : ৭ ফেব্রুয়ারি ‘যশোরে বেপরোয়া ট্রাক চোর ও বিকিকিনি সিন্ডিকেট’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাঁপ করছে মিন্টু গাজী ও লাল্টু গাজী সিন্ডিকেট। তবে অজ্ঞাত করনে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আটক অভিযান চলেছে না বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

প্রায়শ বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিবৃত থাকে একই ভাবে সংবাদ প্রকাশের পর বেশকিছু দিন মিন্টু ও লাল্টু গা-ঢাকা দিলেও আবার মাঠে নেয়েছেন তারা। আবার শুরু করেছেন একই কাজ। কিছু শ্রমিকনেতা ও জনপ্রতিনিধিদের চোর সিন্ডিকেটের প্রতিমাসে সব থেকে বেশি টাকা দিয়ে থাকেন। যার ফলে সমাজে এদের দাফটও বেশি। এ সব শ্রমিকনেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এদের কথায় উঠেন বসেন।

সূত্র জানিয়েছে, অন্য জেলা থেকে চুরি করে আনা ট্রাক যশোরে, আর যশোর থেকে চুরি করা ট্রাক অন্য জেলায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে অভিনব সব প্রক্রিয়ায়। এর মধ্যে এলাকার বহুলালোচিত সেলিম রেজা লিটন ওরফে চোর লিটন ভোলপাল্টে সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। আবার অন্য একটি চক্র চুরি করে আনার একদিনের মধ্যে বডি, ইঞ্জিন, টায়ার রিম ও তলা খুলে আলাদা করে ফেলায় ভূক্তভোগী মালিকগন তাদের গাড়ির হদিস মেলাতে পারেছননা। প্রতি চোরাই গাড়ি কেটে দিতে মালিকদের খরচ করতে হচ্ছে কর্মীদের জন্য ৬ হাজার ও প্রশাসন বাবদ ৫ হাজার টাকা। আর এ সব টাকা সংগ্রহ করছেন ক্ষমতাশীল দলের নাম ব্যবহারকারী একটি সিন্ডিকেট। সচেতন মহল এই চক্রটির পালের গোদাদের আটক করার দাবি জানিয়েছেন।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বকচর হুঁশতলা এলাকার ফারুক, ইঞ্জিন মিস্ত্রী ফারুক, জমিলার ছেলে মাসুদ, মুড়লী এলাকার কালু ড্রাইভার, চৌধুরী পাড়া এলাকার কানা ইজাজ, গোপালগঞ্জ জেলার কাঠির বাজার এলাকার মাসুদ শেখ ও মাহফুজ শেখ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেট কার ও কভার্ড ভ্যান চুরি করে যশোর আনছে। এগুলো দেয়া হচ্ছে শহরের বকচর এলাকার গাজী আয়রণ স্টোর ও গাজী মরটস্ সহ কয়েকটি চিহ্নিত গ্যারেজে। এ চক্রের ওই সদ্যরা প্রত্যেকেই গাড়ি চালানোই পারদর্শী। যশোর ছাড়াও বিভিন্ন শহরে গ্যারেজের সাথে রয়েছে এদের সূসম্পর্ক। বকচর এলাকার এ দু’টি গ্যারেজে চোরাই গাড়ির নতুন বডি বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। অন্য জেলা থেকে চুরি করে আনা ট্রাক যশোরে এনে গ্যারেজে ফেলে খন্ডখন্ড করা হচ্ছে।

এখন আরও কয়েকটি নয়া সিন্ডিকেট বৈধ গাড়ি মেরামতের আড়ালে কয়েকটি গ্যারেজে গোপনে চোরাই গাড়ি মেরামত করে আমুল পরির্বতন করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের। চিহ্নিত গ্যারেজগুলোতে চোরাই গাড়ি কেটে অথবা যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দিতে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে চোরাই গাড়ির কাজ করে দিলে সংশ্লিষ্ট গ্যারেজ মালিকেরা অনেক বেশি টাকা পেয়ে থাকেন। যে কারণে তারা ঝুঁকি থাকলেও গোপনে এসব কাজ করে যাচ্ছেন। তারা রাতারাতি একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ অবৈধভাবে অন্য গাড়িতে সংযোজন এবং রঙ পরিবর্তন করেও দিয়ে থাকেন। এজন্য তাদের এক্সপার্ট কর্মীও রয়েছে। অবশ্য কর্মীরাও গ্যারেজ মালিক ও চোরাই গাড়ির কারবারীদের কাছ থেকে কাজের তুলনায় বেশি টাকা পেয়ে থাকেন।

বকচর এলাকাতে চোরাই গাড়ির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের সদস্য হতে হচ্ছে। ওই সিন্ডিকেটে মাসিক চাঁদা দিতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। এ টাকার বিনিময়ে মালিকদের সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে ওই সিন্ডিকেট। আর প্রতিমাসে মাসিক চাঁদা না দিলে প্রশাসন দিয়ে হয়রানি করা হয় তাদের। পরিবহন সেক্টরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, শহরের গাজী আয়রণ স্টোর ও গাজী মরটসে চোরাই গাড়ির রঙ ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে দেয়া হয় গোপনে। চিহ্নিত এ দুটি প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সোর্স কাজে লাগিয়ে অভিযান চালালে চোরাই গাড়ি সংক্রান্ত বহু অপরাধ ধরা পড়তে পারে। অনেক রাঘব বোয়ালের নামও বেরিয়ে আসতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে।

এব্যাপারে যশোর কেতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আমজমল হুদা জানিয়েছেন- বকচর এলাকায় এধরনের কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে যার তথ্য তার কাছেও এসেছে। এব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিগত সময়ে বেশ কয়েকটি চোরাই গাড়ি উদ্ধারও করেছে। চোরাই গাড়ি বিকিকিনি ও কেটে আমুল পরিবতন করে দেয়া গ্যারেজগুলোর ব্যাপারেও খোজন খবর নেয়া হচ্ছে। আর যারা ভোল পাল্টে চোরাই গাড়ি বিকিকিনি করে চলেছে তাদেরকে আটক করা হবে। এব্যাপারে তিনি তথ্যগত সহায়তা কামনা করেছেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.