অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফিরে যাওয়া কি প্রত্যাবাসনের অংশ

সত্যের সৈনিক অনলাইন : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অচলাবস্থার মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে একটি পরিবার মিয়ানমারে ফিরে গিয়েছে বলে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মূখপাত্র  গ্লোবাল নিউ লাইট অফ মিয়ানমারকে উদ্ধৃতি দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের এক প্রতিবেদনে বুধবার একটি পরিবার রাখাইনে ফিরেছে বলে দাবি করা হয়। ঐ প্রতিবেদনে  রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ না করে পাঁচ সদস্যের ওই পরিবারকে ‘বাস্তুচ্যুত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেছেন, একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত গেছে বলে শোনা গেছে, তবে তাদের পৌঁছানোর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘কেউ চাইলে ফিরে যেতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘রোহিঙ্গা পরিবারটি কক্সবাজারের বালুখালি শিবিরে থাকতো। গতকাল (১০ অক্টোবর) তারা মংডুর কাছে তাদের বাড়িতে ফিরেছে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের যে সংস্থাগুলো চুক্তি করেছে, তারা গত সেপ্টেম্বরে প্রায় ১২টি গ্রামে জরিপ চালিয়েছে। পরে এক বিবৃতিতে সেখানকার পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অনেক এলাকায় অনাস্থা, প্রতিবেশী কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ও অনিরাপত্তাজনিত ভয় বিরাজ করছে।’

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার।

১২ অক্টোবর ২০১৮/সত্যের সৈনিক/মো: জহিরুল ইসলাম খান

Leave A Reply

Your email address will not be published.