অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

খুলনার নগর পিতা হলেন তালুকদার আব্দুল খালেক

সত্যের সৈনিক অনলাইনঃ খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ৬৭ হাজার ৯৭৬ ভোটে পরাজিত করে তিনি খুলনার নগর পিতা হয়েছেন তিনি।

২৮৬টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, তালুকদার আবদুল খালেকের নৌকা প্রতিক পেয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ধানের শীষ প্রতিক পেয়েছে এক লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় সাতষট্টি হাজার ৯৪৬ ভোট।

তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

মোট ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ তিনটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান। এই তিনটি কেন্দ্র ছাড়া আর কোথাও অনিয়ম হয়নি। কেন্দ্র তিনটি হচ্ছে, ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, লবণছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজি মালেক দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসা।

ইসি সচিব বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। কেন্দ্র দুটির ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।’

তবে নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট ডাকাতির যে চিত্র খুলনাবাসী দেখেছে, আমি নিজেও দেখেছি এবং আপনারাও দেখেছেন। সেই নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়ে, বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করল। সেটি হচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০১৮ একটি কালিমালিপ্ত নির্বাচন।’

ফলাফল ঘোষণার আগে তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘আমি মনে করি, জনগণ যে রায় দেবে, আমাদের সবারই সেই রায় মেনে নিয়ে, যেই বিজয়ী হবে, তাকে নিয়েই আমরা আগামী দিনে নগর ভবনের দায়িত্ব নিয়ে খুলনার মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তা বাস্তবায়ন করব।’

খুলনা সিটি করপোরেশনে এবারই প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাঁরা হলেন— নৌকা প্রতিক নিয়ে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক, ধানের শীষ নিয়ে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান, হাতপাখা প্রতিক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক এবং কাস্তে প্রতিক নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু।

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

নির্বাচনে যে দুটি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হয়েছে তা হলো নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১০টি ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে।

১৫ মে ২০১৮/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.