অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

সত্যের সৈনিক অনলাইনঃ বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের শুভ জন্মদিন আজ। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ এই ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের সব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।

বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’। দিসবটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারতের কপিলাবাস্তু নগরীর রাজা শুদ্ধোধনের পুত্র ছিলেন সিদ্ধার্থ (গৌতম বুদ্ধ)। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দে এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে লুম্বিনি কাননে (নেপাল) জন্ম নেন সিদ্ধার্থ (গৌতম বুদ্ধ)। তার জন্মের সাত দিন পর তার মা রানী মহামায়া মারা যান। তার জন্মের অব্যবহিতকাল পর কপিল নামক সন্ন্যাসী কপিলাবাস্তু নগরীতে আসেন। তিনি সিদ্ধার্থকে

দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, সিদ্ধার্থ ভবিষ্যতে হয় চার দ্বিগ্‌জয়ী রাজা হবেন, নয়তো একজন মহামানব হবেন। মা মারা যাওয়ার পর সৎ মা মহাপ্রজাপতি গৌতমী তাকে লালনপালন করেন, তাই তার অপর নাম গৌতম। ছোটবেলা থেকেই সিদ্ধার্থ সব বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু সিদ্ধার্থ সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন বলে তাকে সংসারী করানোর জন্য ১৬ বছর বয়সে রাজা শুদ্ধোধন যশোধরা মতান্তরে যশোধা বা গোপা দেবী নামক এক সুন্দরী রাজকন্যার সঙ্গে তার বিয়ে দেন। রাহুল নামে তাদের একটি ছেলেসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। ছেলের সুখের জন্য রাজা শুদ্ধোধন চার ঋতুর জন্য চারটি প্রাসাদ নির্মাণ করে দেন। কিন্তু উঁচু দেয়ালের বাইরের জীবন কেমন তা জানতে তিনি খুবই ইচ্ছুক ছিলেন। এক দিন রথে চড়ে নগরী ঘোরার অনুমতি দেন তার পিতা। নগরীর সব অংশে আনন্দ করার নির্দেশ দেন তিনি, কিন্তু সিদ্ধার্থের মন ভরল না। প্রথম দিন নগরী ঘুরতে গিয়ে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি, দ্বিতীয় দিন একজন অসুস্থ মানুষ, তৃতীয় দিন একজন মৃত ব্যক্তি এবং চতুর্থ দিন একজন সন্ন্যাসী দেখে তিনি সারথি ছন্দককে প্রশ্ন করে জানতে পারেন জগৎ দুঃখময়। তিনি বুঝতে পারেন সংসারের মায়া, রাজ্য, ধনসম্পদ কিছুই স্থায়ী নয়। তাই দুঃখের কারণ খুঁজতে গিয়ে ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন। দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনার পর তিনি বুদ্ধগয়া নামক স্থানে একটি বোধিবৃক্ষের নিচে বোধিজ্ঞান লাভ করেন। সবার আগে বুদ্ধ তার ধর্ম প্রচার করেন পঞ্চবর্গীয় শিষ্যের কাছে; তারা হলেন কৌন্ডিন্য, বপ্প, ভদ্দিয়, মহানাম ও অশ্বজিত। এরপর দীর্ঘ ৪৫ বছর বুদ্ধ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার বৌদ্ধধর্মের বাণী প্রচার করেন এবং তার প্রচারিত বাণী ভারত ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশে ও দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬৩ অব্দে তিনি কুশীনগর নামক স্থানে ৮০ বছর বয়সে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত বাণীর মূল অর্থ হলো অহিংসা।

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের এ প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

এদিকে বাসাবো সবুজবাগ ধর্মরাজী বৌদ্ধ মহাবিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রভাতফেরি, সমবেত প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা সভা ও বৌদ্ধ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা মাথায় রেখে এবারের বৌদ্ধপূর্ণিমার অনুষ্ঠানসূচি বেশ কিছুটা সংকুচিত করা হয়েছে।

বিশেষ করে শ্রীলংকায় আইএসের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর বুদ্ধপূর্ণিমার অনুষ্ঠানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাই? বাংলাদেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ মঠ ও ঢাকার মঠগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। উৎসবকে ঘিরে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তার নানা ছক। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অগ্রিম সংবাদ সংগ্রহ করে পুলিশদের সরবরাহ করবেন।

মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব দর্শনার্থীকে বিশেষ তলস্নাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বুদ্ধ মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য মঠ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে এবং তাদের আলাদা পোশাক, আর্মড ব্যান্ড বা আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া সব ধরনের মাদকদ্রব্য, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ফানুস উড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে শোভাযাত্রা শুরুর পূর্বে সবাইকে তলস্নাশি করে শোভাযাত্রায় প্রবেশ করানো হবে। শোভাযাত্রা শুরুর পর পথ থেকে কাউকে নতুন করে ঢুকতে দেয়া হবে না। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে শোভাযাত্রার চারপাশ বেষ্টনী দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শোভাযাত্রায় কোনো ধরনের ব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক, দাহ্য পদার্থ, ধারালো বস্তু, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে।

১৮ মে ২০১৯/ সত্যের সৈনিক/ম.ম

Leave A Reply

Your email address will not be published.