অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

সীমান্তে পহেলা বৈশাখ

মোঃ জহিরুল ইসলামঃ কাঁটাতার ছুঁয়ে বসেছিলেন এক বৃদ্ধ। কাঁটাতার পেরিয়ে চেনা কাউকে খুঁজে বেরাচ্ছিল তার দু চোখ। দেখা পেতেই আবেগে আপ্লুত হয়ে গেল বৃদ্ধটি। বলবেন কী? চাইলেও বলতে পারছেন না, দু চোখের অশ্রুই যেন তার না বলা কথাগুলো বলছে। বলছি বাংলাদেশের অলিকত আলী এবং ভারত সীমান্তে থাকা নিয়ামত হোসেনের কথা। আপন দুই ভাই, তবুও কাঁটাতারের বেড়া বিভক্ত করেছে দুই ভাইয়ের বসবাসের ঠিকানাকে, কিন্তু বিভক্ত করতে পারেনি ভ্রাতৃত্বের। এমনই হাজারো পরিবারের মিলন মেলা বসেছিল বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ভোলাপাড়া সীমান্তে।

বাংলা নববর্ষের দিনে ভোলাপাড়া যেন ছিল মিলন মেলা। প্রতি বছর চৈত্রের শেষে ভোলাপাড়ায় কাঁটাতারের বেড়ার দু’পাশে জড়ো হতে দেওয়া হয় দু দেশের বাসিন্দাদের। ভিনদেশে থাকা আত্মীয় পরিজনদের দেখতে ভিড় জমান দু’দেশের মানুষই। চার ঘণ্টা ধরে খোলা থাকে সেটি।

এ দিনও এপারে থাকা হাত কুড়িয়ে নিল ওপার থেকে ছুঁড়ে দেওয়া উপহার। কেউ কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকে হাত গলিয়ে দিয়ে ছুঁলেন ওপার থেকে এগিয়ে আসা হাতকে। দু’পারেই নামল চোখের জল।

ফুলবাড়ি থেকে হৈমন্তী স্বামী নরেশকে নিয়ে এসেছিলেন সীমান্তে। ওপারে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে থাকেন তাঁর বোন। প্রায় আট বছর ধরে দেখা নেই দু’বোনের। পাসপোর্ট ভিসা করে ভারত যাওয়ার সাধ্যও তাঁদের নেই বলে জানান তারা।

সীমান্তের নিয়ম অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া থেকে দেড়শো মিটার পর্যন্ত যাতায়াত নিষেধ। শুধু শেষ চৈত্রের এক দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য বিধি শিথিল হয়। সে দিনই হয় মিলন মেলা। এ বছর পহেলা বৈশাখে পড়েছে । শুধু উপহার নয়। দেদার বেচাকেনাও চলে এ দিন।

দুপুর গড়াতেই বেড়ার সামনে থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিল সীমান্ত রক্ষীরা। বিদায়ের ঘন্টা বেজে উঠায় অশ্রু শিক্ত কন্ঠেই বিদায় জানাতে হলো স্বজনদের। তবুও ক্ষনিকের জন্য হলেও চেনা মানুষের সাথে দেখা অতৃপ্ত হৃদয়ের কিছুটা হলেও তৃপ্ত হলো।

১৬ এপ্রিল ২০১৮/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.