অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

যে কাজ করে বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছিলেন এরশাদ

সত্যের সৈনিক অনলাইননা ফেরার দেশে চলে গেলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রবিবার (১৪ জুলাই) সকাল পৌনে আটায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান । দীর্ঘ ৯ বছর রাষ্ট্রপ্রধান থাকার সময়ে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তার নেওয়া কার্যক্রম ও সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ইতিহাসে।

একনজরে জেনে নিন সরকারে থাকার সময় এরশাদের ১০০ অবদান

১. রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা: সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বাংলাদেশে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা দেন পল্লীবন্ধু এরশাদ।

২. উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিল মওকুফ: ক্ষমতা অধিগ্রহণের পর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ করেন।

৩. বিচারব্যবস্থা দ্রুত করণ: বিচারব্যবস্থা দ্রুত করতে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি দণ্ডবিধি এবং ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করেন পল্লীবন্ধু।

৪. শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা: এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের আগে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও রোববার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। তিনি গরিবের হজ ‘জুমার নামাজ’ কে প্রাধান্য দিয়ে শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করেন।

৫. জাকাত তহবিল ও ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট: জাকাত তহবিল ও জাকাত বোর্ড গঠন করেন এরশাদ। দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে হিন্দু ধর্মকল্যাণ ট্রাস্ট এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানধর্মের প্রত্যেকটির জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দুটি পৃথক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন।

৬. উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি: ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর-এর মধ্যে ৪৬০ উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

৭. ছাত্রদের সম্পূরক আয়ের ব্যবস্থা: ‘পে অ্যাজ ইউ আর্ন’ প্রকল্পে স্কুটার বরাদ্দ দিয়ে ছাত্রদের সম্পূরক আয়ের ব্যবস্থা করেন।

৮. বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের নামে হোস্টেল নির্মাণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের নামে কোনো হোস্টেল নির্মাণ না করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানের নামে দুটি হোস্টেল নির্মাণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

৯. হাইকোর্টের বেঞ্চ সম্প্রসারণ: চারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রংপুর, যশোর, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট এবং চট্টগ্রামে ৬টি হাইকোর্টের বেঞ্চ সম্প্রসারণ করেন এরশাদ।

১০. শান্তি মিশনে সৈনিক পাঠানো: সব রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সৈন্য পাঠিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বদুয়ারে উজ্জ্বল করেন এরশাদ।

১১. স্টেডিয়াম নির্মাণ: মিরপুরে দ্বিতীয় জাতীয় স্টেডিয়াম এবং ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন। বনানীতে আর্মি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন।

১২. পার্বত্য বিপথগামী উপজাতি: নানাসময়ে পাবর্ত্য উপজাতিদের কেউ কেউ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদোহী কাজে জড়িয়ে পড়েছিল। পরে তাদের অনেবেই আত্মসমর্পণ করে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এসব আত্মসমর্পণকারী পার্বত্য উপজাতিদের সাধারণ ক্ষমা এবং পুনর্বাসনে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করেন।

১৩. গণমাধ্যমের প্রসারে ভূমিকা: গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় প্রেস কমিশন গঠন করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ ছাড়া রেডিও ও টেলিভিশন একত্রীকরণের মাধ্যমে জাতীয় সম্প্রচার সেল গঠন করেন।

১৪. গণমাধ্যমের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়া: সরকার নিয়ন্ত্রিত দি বাংলাদেশ অবজারভার ও চিত্রালীতে পূর্বতন মালিকানায় ফিরিয়ে দেন এইচ এম এরশাদ।

১৫. গণমাধ্যমের জন্য ট্রাস্ট গঠন: দৈনিক বাংলা, বিচিত্রা এবং বাংলাদেশ টাইমসের স্বাধীন ব্যবস্থাপনার জন্য ‘দৈনিক বাংলা ট্রাস্ট’ ও ‘বাংলাদেশ টাইমস ট্রাস্ট’ নামে দুটি ট্রাস্ট গঠন করেন।

১৬. ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম উন্নয়ন: অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম, যৌথ দল-কষাকষির এজেন্ট নির্ধারণ এবং ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচনের অনুমতি দেন এরশাদ।

১৭. বিদেশে চাকরিপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধিকরণ: অধিক হারে বিদেশে চাকরিপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং রিক্রুটিং এজেন্টদের হয়রানি বন্ধে অধ্যাদেশ জারি করেন এরশাদ।

১৮. বোয়েলস গঠন: বিদেশে চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট লিমিটেড (বোয়েলস) নামে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করেন এরশাদ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অধিক হারে বিদেশে চাকরিপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

১৯. সুষ্ঠু কর-কাঠামো প্রবর্তন: অধিকতর সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত কর-কাঠামো প্রবর্তন করেছেন এরশাদ। স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরুজ্জীবিত করেন।

২০. মহকুমাকে জেলায় পরিণতকরণ: ৪২টি মহকুমাকে জেলায় পরিণত করেন এরশাদ। এতে বাংলাদেশের জেলার সংখ্যা হয় ৬৪টি।

২১. গৃহ ও গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ: দেশের উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে স্বল্পসুদে গৃহ নির্মাণ ঋণের ব্যবস্থা করেন এরশাদ। এতে তার সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে ছিন্নমূল ও গৃহহীনদের মাথার নিচে ছাদ জোটে। ১৯৮৮ থেকে ‘৯০ সালে সারা দেশে ৫৬৮টি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করে ২১ হাজার ছিন্নমূল ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেন।

২২. কৃষিঋণ বাড়ানো: আজন্মই কৃষকবান্ধব ছিলেন এরশাদ। এজন্যই তিনি পল্লীবন্ধু। কৃষকরা যেন অর্থাভাবে চাষাবাদ করতে সমস্যায় না পড়েন সে জন্য কৃষিঋণ বাড়িয়ে দেন তিনি।

২৩. বেসরকারি পর্যায়ে শিল্প স্থাপনে উদ্যোগ: বেসরকারি পর্যায়ে শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দিতে ৩৩টি পাটকল এবং ২৫টি বস্ত্র মিল থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করে সেগুলো বাংলাদেশি মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ করেন এরশাদ।

২৪. ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু: নতুন শিল্পের মঞ্জুর দানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেন। ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তচালিত তাঁতশিল্পের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।

২৫. জীবন ও সাধারণ বীমার প্রসার: বিদ্যমান দুটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি জীবন ও সাধারণ বীমা ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেন এরশাদ। চট্টগ্রামে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ জোনের কাজ শুরু করেন।

২৬. বৃক্ষ নিধন রোধ: গাছ কাটার হার কমাতে ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করেন এরশাদ। এতে বহু ব্রিক ফিল্ডে কাঠ পোড়ানো বন্ধ হয়।

২৭. কক্সবাজারের উন্নতীকর: কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নেন এরশাদ।

২৮. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উদ্যোগ চিরস্মরণীয়। তার আমলেই শুরু হয়েছিল পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার লাগাম টেনে ধরে দেশ।

২৯. চিকিৎসক নিয়োগ: উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে তিনজন বিশেষজ্ঞসহ ৯ জন ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছিলেন এরশাদ।

৩০. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ: পল্লী এলাকার ৩৯৭ উপজেলার মধ্যে ৩৩৩টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে এরশাদের আমলে।

৩১. গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়া: প্রতিটি ইউনিয়নে পরিবার কল্যাণকেন্দ্র স্থাপন করে সেখানে ওষুধ ও কর্মচারী নিশ্চিত করেছিলেন পল্লীবন্ধু।

৩২ দাইকে প্রশিক্ষণ: সারা দেশে ২৫ হাজার দাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনেন।

৩৩. হাসপাতালগুলোতে ওষুধ সরবরাহ বৃদ্ধি: সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের জন্য বরাদ্দ ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করেন এরশাদ।

৩৩. সেচ প্রকল্প বৃদ্ধি: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন কৃষিকে। সেচের জন্য ১৯৮৪ সালেই ১৭ হাজার ৩০০ গভীর নলকূপ, এক লাখ ২৬০০ অগভীর নলকূপ, ৪২ হাজার লো-লিফট পাম্প বসান।

৩৪. ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি: এরশাদের আমলে সেচ প্রকল্পাধীন চাষাবাদ বাড়ানো হয়েছিল দ্বিগুণ। যে কারণে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়। গমের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়ে ৫ গুণ বেশি হয়ে যায়।

৩৫. কৃষিঋণ বিতরণ: সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ করেন এরশাদ। এ ঋণ নিয়ে কৃষকরা নতুন উদ্যোমে চাষাবাদে নেমে পড়েন ও ফসল উৎপাদনে যুগান্তকারী সফলতা আসে। চট্টগ্রামে ইউরিয়া ও যমুনা (তারাকান্দি) সার কারখানা স্থাপন করেন।

৩৬. সার্বজনীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন: সার্বজনীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তনের পদক্ষেপ নেন এরশাদ। এতে দেশে নিরক্ষরতার হার দ্রুত কমতে থাকে।

৩৭. প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ: প্রতি ২ কিলোমিটার এলাকা বা ২ হাজার মানুষের বসবাস এলাকায় একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেন এরশাদ।

৩৮. বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ: শিক্ষাকে বাস্তবমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং অর্থনৈতিক চাহিদার পূর্ণ উপযোগী হিসেবে ঢেলে সাজান এরশাদ। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ শুরুই করেন তিনি, যা ছিল তার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

৩৯. পরীক্ষা পদ্ধতিতে মান উন্নয়ন: চারটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা একই দিনে নেয়া শুরু হয় এরশাদের আমলেই । এতে দেশব্যাপী শিক্ষাকার্যক্রমে একটি সমন্বয় সাধন হয়।

৪০. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি: এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় একটি বালক ও একটি বালিকা বিদ্যালয় এবং জেলা সদরে একটি কলেজকে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

৪১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ: ২১ কলেজকে জাতীয়করণ করেন এরশাদ। ৯টি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করেন তিনি।

৪২. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা শিক্ষাক্ষেত্রে তার যুগান্তকারী অবদান।

৪৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সুবিধা: প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজশিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করেন এরশাদ।

যে ১০০ কাজে বাংলাদেশকে বদলে দেন এরশাদ

৪৪. কলেজ হোস্টেল নির্মাণ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হল এবং ১৭টি কলেজ হোস্টেল নির্মাণ করেন।

৪৫. চট্টগ্রাম পৌরসভার উন্নয়ন: চট্টগ্রাম পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার এমন পদক্ষেপের পরই বাণিজ্যিক শহরে উন্নয়নের ছোঁয়া বেগবান হয়।

৪৬. বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দোতলা বাসসহ অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করেন।

৪৭. পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা: বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। এ ছুটির পরই বাঙালিরা এ দিনকে আরও বর্ণিলভাবে উদযাপন করতে শুরু করে।

৪৮. শিক্ষার মান উন্নয়নে: কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নে নানা কর্মসূচি নেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৫০ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষণ করেন। মেয়েদের জন্য পৃথক ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

৪৯. ইংরেজি শিক্ষার প্রসার: আর্ন্তজাতিক ভাষা ইংরেজি বিষয়ে বাংলাদেশিদের দূর্বলতা কাটাতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন এরশাদ।

৫০. সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় উন্নয়ন: সড়কপথে যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক উন্নয়ন করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দুই বছরে ২০৬ উপজেলা সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে।

৫১. ঢাকা-মাওয়া বিকল্প সড়ক: ঢাকা-মাওয়া বিকল্প সড়ক দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যায় এরশাদের আমলে।

৫২. রাস্তা নির্মাণ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিম্নাঞ্চলীয় রাস্তা নির্মাণ করেন। ৮ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ১৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি কাঁচারাস্তা নির্মাণ করেন।

৫৩. বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণ: চীনের সহায়তায় বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করেন এরশাদ। এছাড়াও ছোট-বড় ৫৮০টি সেতু নির্মাণ করেন তিনি।

৫৪. মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু: জাপানের সহায়তায় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা চূড়ান্ত করেন এরশাদ।

৫৫. মহসড়ক উন্নয়ন: খুলনা-মোংলা ও কুমিল্লা-চান্দিনা বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেন এরশাদ।

৫৬. সিলেট সড়ক নির্মাণ: সিলেট থেকে ভৈরব হয়ে ঢাকা সড়ক নির্মাণ করেন এরশাদ।

৫৭. কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি: কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির প্রর্বতন করেন এরশাদ। এই প্রকণ্পের আওতায় গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি।

৫৮. রেল যোগাযোগে উন্নয়ন: রেলওয়ের ৩০টি ইঞ্জিন, ১২৫৫টি মালবাহী বগি সংগ্রহ করেন এবং ১০৬টি যাত্রীবাহী বগি সংগ্রহের উদ্যোগ নেন এরশাদ।

৫৯. রেলওয়ে বোর্ড বিলুপ্ত করণ রেলওয়ে বোর্ড বিলুপ্ত করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এবং রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি সংস্থা গঠন করেন।

৬০. বিমান যোগাযোগ উন্নয়ন: বিমান যোগাযোগ উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

৬১. রাজশাহী বিমানবন্দর: রাজশাহী বিমানবন্দরের কাজ সমাপ্ত করেন এরশাদ।

৬২. সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর: সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করেন এরশাদ।

৬৩. চট্টগ্রাম বিমানবন্দর: চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বোয়িং ওঠানামার জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করেন এরশাদ।

৬৪. শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করেন এরশাদ।

৬৫. বিমান ক্রয়: ৪টি আধুনিক ডিসি ১০-৩০ বিমান ক্রয় করে বাংলাদেশ বিমানে সমৃদ্ধি আনেন এরশাদ।

৬৬. উন্নত ডাকব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ: ২১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১২ উপজেলায় উন্নত ডাকব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এরশাদ।

৬৭. আন্তর্জাতিক ডায়ালিং: এরশাদের আমলে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ টেলিফোনে সরাসরি আন্তর্জাতিক ডায়ালিং করতে সমর্থ হয়।

৬৮. মেগনেটো এক্সচেঞ্জ স্থাপন: ১৯৮৩ সালে ৭৮ উপজেলায় ৩০ লাইনের মেগনেটো এক্সচেঞ্জ স্থাপন করেন এরশাদ।

৬৯. বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট চালু: আশুগঞ্জে ৬০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট চালু করেন এরশাদ।

৭০. বিদ্যুৎ উৎপাদন স্টেশন নির্মাণ: চট্টগ্রাম, কাপ্তাই, বরিশাল, ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্টেশন নির্মাণ সমাপ্ত করেন।

৭১. পল্লী বিদ্যুতের সম্প্রসারণ: ১২৬ উপজেলায় বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করেন এরশাদ। দুই বছরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাধ্যমে পাঁচ হাজার মাইল বিতরণ লাইন নির্মাণ করেন।

৭২. গ্যাসের সংযোগ বৃদ্ধি: বাখরাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রের সঙ্গে তিতাস গ্যাসের সংযোগের জন্য ৩২ মাইলব্যাপী ২০ ইঞ্চি লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করা হয় এরশাদের আমলে।

৭৩. সারফেজ গ্যাদারিং ফ্যাসিলিটিজ: তিতাস গ্যাসের ৬ নম্বর কূপ চালু এবং ৭ ও ৮ নম্বর কূপের সারফেজ গ্যাদারিং ফ্যাসিলিটিজ সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান করেন এরশাদ।

৭৪. গ্যাসের কূপ খনন সীতাকুণ্ডে কূপের খননকাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু করেন এরশাদ।

৭৫. সিমেন্ট উৎপাদন প্রকল্পে: জয়পুরহাট কঠিন শিলাখনি এবং সিমেন্ট উৎপাদন প্রকল্পের অনুমতি দেন এরশাদ।

৭৫. বাঁধ প্রকল্প নির্মাণ: ন্যাশনাল ওয়াটার মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেন এরশাদ। ১৯৮৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিস্তা বাঁধ প্রকল্প নির্মাণ এগিয়ে নেন।

৭৬. সেচ প্রকল্প নির্মাণ: মুহুরি ও মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণকাজ শেষ করেন তিনি।

৭৭. স্মৃতিসৌধ নির্মাণ: মুজিবনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন।

৭৮. সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ: স্বল্প সময়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণসম্পন্ন করেন।

৭৯. রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন: পুরনো গণভবনকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে রূপান্তর করেন এরশাদ।

৮০. উপজেলা ও জেলা সদর দফতর নির্মাণ: মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা সদর দফতর নির্মাণ করেন এরশাদ।

৮১. শহীদ মিনার চত্বর সম্প্রসারণ: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর সম্প্রসারণ করা হয় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলেই।

৮২. বায়তুল মোকাররমের উন্নয়ন: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ভবন সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন করেন এরশাদ।

৮৩. সংসদ ভবন এলাকার উন্নয়ন: সংসদ ভবন এলাকার উন্নয়ন করেন এরশাদ।

৮৪. তিন নেতার মাজার: রমনায় জাতীয় তিন নেতার মাজার নির্মাণ সম্পন্ন করেন।

৮৫. নাগরিক সংবর্ধনা কেন্দ্র নির্মাণ: জাতীয় ঈদগাহ ও সচিবালয়ের সামনে নাগরিক সংবর্ধনা কেন্দ্র নির্মাণ করেন এরশাদ।

৮৬. নর্থ সাউথ ও ওয়ারী খাল রোড নির্মাণ করেন।

৮৭. মিরপুর ও গুলশান: মিরপুর ও গুলশান পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করেন।

৮৯. প্লট বরাদ্দ: উত্তরা ও বারিধারায় নতুন প্লট বরাদ্দ দেন তিনি।

৯০. খেলার মাঠ তৈরি: পুরান ঢাকার তিনটি খেলার মাঠ তৈরি করে দেন এরশাদ।

৯১.ধুপখোলা কমপ্লেক্স: ২৮০টি বিপনিবিশিষ্ট ধুপখোলা কমপ্লেক্স তৈরি করেন তিনি।

৯২. বহুতলবিশিষ্ট ভবন তৈরি: রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ভেঙে আধুনিক ও বহুতলবিশিষ্ট ভবন তৈরি করেন এরশাদ।

৯৩. বাস টার্মিনাল নির্মাণ: ফুলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভিড় কমাতে তেজগাঁও, গাবতলী ও যাত্রাবাড়ীতে তিনটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করেন।

৯৪. শিশু পার্ক নির্মাণ: ঢাকায় এক ডজনের বেশি শিশু পার্ক নির্মাণ করেন এরশাদ।

৯৫. ট্রাফিক সিগন্যাল: যানজট নিরসনে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করেন এরশাদ।

৯৬. মুনসেফ কোর্ট স্থাপন: বিচারব্যবস্থাকে আরও বেগবান করতে প্রতিটি উপজেলায় মুনসেফ কোর্ট স্থাপন করেন এরশাদ।

৯৭. বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা: দেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করেন এরশাদ। খেলার জগতে এরশাদকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

৯৮. নগর উন্নয়ন: নগরীর পানি ও বিদ্যুৎ লাইনের উন্নয়ন করেন এরশাদ। নগরীতে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। নগর ভবন ও পুলিশ সদর দফতর নির্মাণ করেন।

৯৯. ডিএনডি বাঁধ নির্মাণ: ঢাকা বন্যা নিরোধ বাঁধ নির্মাণ করে রাজধানীকে বন্যা থেকে রক্ষা করেন এরশাদ।

১০০. নগর ভবন ও পুলিশ সদর দফতর নির্মাণ করেন এরশাদ।

এছাড়াও রাজধানীর উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম রয়েছে সাবেক এ রাষ্ট্রপতির। ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল সংস্কার করেন এরশাদ। প্রতিটি সড়ক ও অলিগলিতে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করেন। পান্থপথ ও রোকেয়া সরণি সড়ক নির্মাণ করেন। পথ শিশুদের জন্য পথকলি ট্রাস্ট গঠন করেন। উপজেলাভিত্তিক তিন স্তরের প্রশাসনব্যবস্থা চালু করেন। যৌতুক নিরোধ আইন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, মুসলিম পারিবারিক আইন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন জারি করেন। বিসিএস একাডেমি ও লোক প্রশাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। ৯ বছর রাষ্ট্র পরিচালনাকালে পল্লীবন্ধু অজস্র কল্যাণময় উদ্যোগ গ্রহণ করেন পল্লীবন্ধু যার সুফল দেশ ও জাতি সম্মানের সঙ্গে আজীবন উপভোগ করবে।

(সংগ্রহকৃত)

১৫ জুলাই ২০১৯ / সত্যের সৈনিক / এমএসআইএস

Leave A Reply

Your email address will not be published.