অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

আমাকে বলতে দাও – এস এম আনিছুর রহমান

আমাকে বলতে দাও ———-
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ,
পাইক পেয়াদা তোমরা শোন —-
আমি আর ভয় করি না কোন ,
তোমাদের অস্ত্র তুলে নাও ,
এই বুলেট বোমা পিস্তল সব গুটিয়ে নাও ,
ঐ শোন রব উঠেছে আমাদের বাঁচতে দাও ,
আমাকে বলতে দাও ,
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ।

এই কী আমাদের স্বাধীনতা—-
যেখানে প্রতিনিয়ত কাঁদে আমাদের সভ্যতা ,
দিবানিশি কাঁদে আমার বোন আমার মা ,
বিপন্ন মানবতা —–
এই কী আমাদের স্বাধীনতা —
বিবস্ত্রা রমণীর অসভ্য সন্তানের পিতা ,
খোলা মাঠে ষোড়শী কুমারীর আর্তচিৎকার ,
এক দঙ্গল কুলাঙ্গার সন্তানের রণহুংকার ,
স্বাধীনতা আমার হে স্বাধীনতা ——
যার অস্তিত্ব জুড়ে বসবাস করে বিফলতা
সারা বাংলায় ধিকিধিকি জ্বলে শ্মশানের চিতা ।

আমাকে বলতে দাও ——
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ,
এই কী জনতার ন্যায্য অধিকার —
কোথায় আমাদের ভোটাধিকার —
চারিদিকে দেখি স্বৈরাচার আর স্বৈরাচার ।
শহীদের ঋণ —শোধ হবে কি কোনদিন ?
হয়েণার ছোবলে আবারও রক্তাক্ত এ জমিন—
আবারও স্বৈরতন্ত্রের হানা–
নেই কারো অজানা ,
চারিদিকে দেখ ফোঁসছে মানুষ
আমরা মানি না মানব না—

আমাকে বলতে দাও —–
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ,
আজকে দেখ স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত ,
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ,
তোমরা যা বল আর যা কর সব মিথ্যা , মিথ্যা ,
এ স্বাধীনতা এক অসভ্য সন্তানের পিতা —
নগ্ন দেহে ধর্ষিতা কুমারীর জ্বলন্ত এক চিতা ।

আমাকে বলতে দাও —–
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ,
থামাও তোমার রণ তরী , থামাও জারিজুরি ,
ঐ দেখ স্বাধীন দেশে পুড়ছে ষোড়শী কুমারী ।
যারা এদেশের রক্ত খেয়েছে ,
যারা এদেশটাকে চুষে নিয়েছে —
তারা আজ মন্ত্রী , তাদের চৌদ্দ গোষ্ঠী করে ফুর্তি ,
তারা গান শোনায় আমরা সম্প্রীতি চাই সম্প্রীতি
যারা এদেশে আগুন জ্বেলেছে ,
লুটে নিয়েছে গনতন্ত্রের সব—
তারাই আজ মন্ত্রী তন্ত্রী করছে কলরব
তাদের কত শান্তি আর শান্তি ।

সামান্য চাকরির জন্য যখন
লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়
তখন , আমারও প্রশ্ন জাগে
এই কী —-এই কী— !
আমাদের বাবার রক্তে কেনা স্বাধীনতা ,
এ কেমন ধৃষ্টতা ?
বিনা বিচারে অসহায় কাঁদে পেশীশক্তির জোড়ে
দেশবাসী তোমরা জেগে উঠো স্বচ্ছতার তোড়ে ।
আমাকে বলতে দাও —
তোমরা মেশিন গান চালাও মর্টার চালাও
যত পার কর গুলি –ঢালাও—
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে—

যত পার নাও , লুফে নাও—
গরিব নিরন্ন অসহায় মানুষের চামড়া তুলে নাও ,
ভ্যাট বাড়াও সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়াও ,
বাড়াও আরও বাড়াও—-
মেধাবীদের ফেলে অযোগ্যদের ঢেলে সাজাও ,
গাজনের বাজনা বাজাও , বাজাও—
আমাকে বলতে দাও—
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে—–

আমাকে বলতেই হবে , বলতে দাও—
ঐ দেখ ঈশান কৃষাণীর চোখে—–
টপটপে নোনা জল ,
শ্রমের মজুরী পায়না শ্রমিক সবই নিস্ফল—
বীনা বিচারে ফিরছে বাড়ী সমস্ত প্রজা কুল ,
বেদনায় আড়ষ্ট পৃথিবী কেঁদে কেঁদে আকুল ।
মানবতা আর সভ্যতা সব কি উধাও—
আমাকে বলতে দাও—-
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ——-

স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা —-
রাতের আঁধারে হারিয়ে যায় তোমার সংবিধান ,
তুমি নিশ্চুপ –পৃথিবী হতে হারিয়ে গেল সম্মান ,
তুমি লাফাও , লাফাও , গণতন্ত্র বাঁচাও–
আমাকে বলতে দাও ,
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ।

আবারও রক্তাক্ত হয় পল্টন , শাপলা চত্বর—
আবারও গগনবিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত হয়
গ্রাম থেকে গ্রামান্তর —
এই কি স্বাধীনতার নামান্তর , কেঁপে ওঠে অন্তর ,
চারিদিকে শুনি চিৎকারের প্রতিধ্বনি—-
আমাকে বাঁচাও—- আমাকে বাঁচাও ,
আমাকে বলতে দাও—
আজ আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে ।

১৪/৯/২০১৯/ সত্যের সৈনিক/ শামীমা নাসরীন

Leave A Reply

Your email address will not be published.