অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

“একজন মহান শিক্ষকের কথা”- আনোয়ারুল আজিম

জনাব রকোনুজ্জামান ( বাচ্চু)
প্রধান শিক্ষক ইছাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাকেরগঞ্জ।
খেপুপাড়া হাই স্কুলের অংকের কিংবদন্তী শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মরহুম করম আলী স্যারের ছোট ছেলে।

শ্রদ্ধেয় করম আলী স্যারের ছাত্র আমি। এমন গুনি শিক্ষক আমি জীবনে খুব কম দেখেছি!
স্যারের অগনিত ছাত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চপদে অত্যন্ত সুনামের সহিত চাকুরী জীবম সমাপ্ত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড: আজিজুল হক, খ্যাতিমান ডা: আবদুল হক, ডা:জাব্বার বিশ্বাস, ডা: অসিত বরন বিশ্বাস, ডা: গীতা, ডা: মজিবর , ডা: মাসুমা রহমান,বিখ্যাত আর্কিটেক্ট আমিনুল হক ( গুটিয়া মসজিদে ডিজাইনার) ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ খলিলুর রহমান, সচিব মোখলেসুর রহমান, সচিব নাসির আহমেদ, অধ্যক্ষ ড: শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান, অধ্যক্ষ জয়দেব সজ্জন, ব্রিগেডিয়ার হাবিবুর রহমান, মেজর তাইফ,উইং কমান্ডার জামিল আলম, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার রমেশ পাল, কৃষিবিদ শাহিন আনোয়ার, কেমিস্ট আশরাফ, সফল এনজিও কর্মকতা মজিবর রহমান, রাজনীতিবিদ সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলার চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব তালুকদার, উপজেলা চেয়ারম্যান রাকিবুল আহসান, মেয়র হাজী হুমায়ুন, মেয়র বিপ্লব হালদার সহ অসংখ্য ব্যবসায়ী সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত যারা আজ খেপুপাড়ায় প্রতিষ্টিত নিজ কর্মগুনে।
সকলের নাম এই স্বল্প পরিসরে বলা সম্ভব না।
বাচ্চুর বোর্ডে আসলেই একবার আমার সাথে দেখা করে যায়। আমি খুটিয়ে খুটিয়ে সবার খবর জিজ্ঞাস করি স্যারের অন্যছেলে মেয়েরা কে কোথায় আছেন।
করম আলী স্যারের নিজ বাড়ি বাকেরগঞ্জের ফরিদুর ইউনিয়নে। স্যারকে ওখানেই সমাহিত করা হয়েছে।
স্যার খুব পান খেতেন মুখটা লাল থাকত।
একটি বেত নিয়ে ক্লাসে ঢুকতেন আজও সেই দৃশ্য চোখে ভাসে।
আমাকে একবার দুষ্ঠামি করার জন্য জোড়া বেত দিয়ে ক্লাসে পিটিয়ে সেই রাতেই নানা বাড়ি গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আসছিলেন। আমার নানার সাথে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
একটি ঘটনা বলে শেষ করছি।
একবার ডিপি আই স্কুল ভিজিটে আসেন পাকিস্তান আমলে।
স্যার ক্লাসের ফার্স্ট বয়কে ব্লাক বোর্ডে অংক করাতে দিয়ে চোখ বুজে ছিলেন। এই সময় ডিপি আই সাহেব ক্লাসে ঢুকে স্যারকে চোখ বন্ধ চেয়ারে বসা দেখতে পেয়ে ভৎসনা করেন।
স্যার নীরবে উঠে ব্লাক বোর্ডে একটি অংক তিন প্রকার নিয়মে করে ডিপি আইকে তাক লাগিয়েব দেন। তখন ডিপি আই সাহেব নিজ ভুল বুজতে পেরে স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
স্যারের ছেলে মেয়েরা ভালই আছেন সবাই মোটামুটি। তবে স্যারের বিখ্যাত ছাত্রদের মত কেহই হতে পারেনি।
স্যার ছাত্রদের প্রতি এত মনোযোগী ছিলেন যে নিজ সন্তানের প্রতি খেয়াল করতে পারেননি। তবে তাদের মানবিক গুনাবলি প্রশংসার দাবী রাখে।
স্যারের কোন ছবি সংগ্রহে নেই।
স্যারকে আল্লাহ পাল জান্নাত নসীব করুন যিনি অকাতরে নিজেকে ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে।
বাচ্চুর মাঝেই স্যারকে খুঁজে পাই। আর খেপুপাড়া হাই স্কুলের ক্লাস রুমে ফিরে যাই।
বাচ্চু আমার ভাই ডা: মসির সহপাঠী তাই সে আমার অত্যন্ত স্নেহ ভাজন।

১১/০৭/১৯/সত্যের সৈনিক/জহিরুল বিদ্যুৎ

Leave A Reply

Your email address will not be published.