অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

বীরাঙ্গনার ললাট (পর্ব-এক) -সাহেদ আহামেদ

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে, অসাধারণ- একটি যন্ত্র মুঠোফোন, সময় একপ্রকার মোমবাতির মতো গলছে যার প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে মিনিটের পর মিনিট।
হঠাৎ শ্রবণশক্তি আকৃষ্ট করলো মধুকর একটি ডাক! “ও দাদু,কেমন আছো?” চোখ তুলে তাকাতেই দেখি! রূব্বানী বুবু, ৫৫/৫৬ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধ মহিলা, দশের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে যার দিন হয় রাত। দুই থেকে পাঁচ-টাকার একটি নোট,যার- ঠোঁটে মুচকি হাসি যোগান দিতে যথেষ্ট। যাকে নিয়ে বাড়িয়ে বলার মতো তেমন- কিছু নেই, এমনটি ভেবে এসেছি এতদিন। অথচ আজ তাকে নিয়ে লিখছি, যতই- লিখছি ততই তার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়েই চলছে!
রূব্বানী বুবু : ও দাদু, কেমন আছো?
আমি : ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন বুবু?
রূব্বানী বুবু : শরীল’ডা বেশি ভালা না, একটু চা খাওয়াইবা দাদু?
আমি : শুধু চা? বিস্কুট খাবেন না?
রূব্বানী বুবু : হা হা হা, হ বিস্কুট তো খামু, সত্য কইতে কি, আমি অনেক মানুষ দেখছি, কেউ কাউরে মনে রাখেনা, কিন্তু এই পাগলনীর বিস্কুট ছাড়া চা চলেনা- এই কথাটাও তুমি ঠিক মনে রাখছো।
আমি : অমন করে বলবেন না বুবু, আপনি খান, এই বলে বিষয়টি ঘুরিয়ে নিতেই, সে বলে উঠলো!
রূব্বানী বুবু : আমার একটা ভাই আছিলো খুব আদর করতাম, হঠাৎ একদিন …..!!! এই বলে চুপ হয়ে যেতে দেখলাম! আমার কৌতুহল আরো বেড়ে গেলো…
আমি : আমি তো জানতাম আপনার কেউ নেই!
রূব্বানী বুবু : সবাই এটাই জানে।
আমি : কি হয়েছিল তার?
রূব্বানী বুবু : কিছু না,কিছু না….।
বুঝতে পারছিলাম,সে কিছু বলতে চাইছে না, চা বিস্কুট খাওয়া শেষ দেখে, তার হাতে পঞ্চাশটি টাকা গুঁজে দেওয়ায়, সে হু-হু করে কেঁদে উঠলো!
রূব্বানী বুবু : দাদুরে কেন জানি তোর ভিতরে তারে খুঁইজা পাই, আমি …. বাজান ওরে পয়সা দিলে, কিছু খরচ করতো বিস্কুট কিন্না আর বাকি পয়সা আমারে আইন্না দিতো, আর কইতো, বুবু তুই এই পয়সা জমাইয়া কিছু কিনিস! ওর কথা মনে হইলে খুব কষ্ট হয় আমার।
আমি : কি হয়েছিল তার?
রূব্বানী বুবু : হে অনেক কথা, যে কথা আইজো কেউ জানেনা, একজন জানতো হে-ও মারা গেছে অনেকগুলা বছর আগে।
আমি : আমাকে বলেন? আমি শুনবো।
রূব্বানী বুবু : আরেকদিন কমু আইজ তুমি ব্যস্ত মনে হয়, মোবাইলে কি জানি করতাছ।
আমি : সাথে-সাথে ফোনটা পকেটে রেখে দিলাম। বললাম তেমন কিছুই না, আগামীকাল ২৬ সে মার্চ, স্বাধীনতা দিবস, খুব ভোর বেলায় ফুলের তোড়া নিয়ে শহীদ মিনার যাবো, এই নিয়ে আমার কিছু বন্ধুর সাথে আলোচনা করছিলাম।
রূব্বানী বুবু : ২৬ সে মার্চ!!! হ এই দিনটাই তো হেই রাক্ষসী তারিখ! যে তারিখ আমার সব কাইড়্যা নিলো।
আমি : কি বলছেন বুবু? আমাকে একটু খুলে বলুন, আমি শুনতে চাই সেই সব কথা। চলবে…।

১৫ এপ্রিল ২০১৮/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.