অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

“সুখ”- এবিএম সাহাব উদ্দিন

 

কাল রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি-
চির অধরা সে অনুভূতি বা বোধের ছায়া শরীরিকে
স্পর্ষ করবো বলে এগুতেই নিমেষে মিলিয়ে গেল
শূন্যে কিংবা অতল তিমিরে।
নিদ্রা ভেঙ্গে অকস্মাৎ জেগে উঠি-
মূর্হুত আগের রেশটা তখনো কাটেনি,
ভারি সুন্দর, অর্পূব অপ্সরী।
তখনো হৃদয়ে ব্যাপক শিহরণ, পুলকিত অনুভব,
আহা, এক পলকের জন্য স্পর্ষ করা হলো না চিরসুন্দর।
কে যেন অলক্ষ্যে বলে গেলো; স্বপ্ন ভাঙ্গার অব্যবহিত পর-
তুমি স্পর্ষ পেলেনা যে অনন্ত আকাঙ্খা,
তাই সুখ। সেইতো সুখানুভূতি।
তাই, ভেবে ভেবে আজো প্রশ্ন জাগে
এই যে আকাশ বাযূ, মাটি জল অবিরল
এই যে সাগর নদী পর্বত, অবারিত প্রকৃতি সরল
এই যে নর নারী, প্রেম ভালোবাসা;
অর্থ বিত্ত বৈভব, সর্বগ্রাসী অপার ক্ষমতা
কোথায় সুখের আকর; ঠিকানা কি তার?
সকলেরই একই উত্তর-
সুখ সে তো তোমারই অন্তর।
যদি তাই হবে তবে কে কেড়েছে চিরকাঙ্খিত সুখ?
কেন নয় সুখি এ ধরাতলে কেহ?

অতিশৈশবে বুঝতে শেখার পর
মাতৃক্রোড়ে অসম্ভব নিরাপত্তায়
নিদ্রার অনুভূতিকেই ভেবেছি সুখ,
বাবার আদুরে হাত ধরে কৈশোর এলো,
যা কিছু আরাধ্য ছিলো, না চাইতেই পেয়েছি সব
সে সবের নিবীড় আনন্দ
নি:শর্ত অদরের অনাবিল তৃপ্তিকে ভেবেছি সুখ।
তারপর যৌবন এলো, সেই থেকে শুরু সুখের জাল বোনা।
সহসাই পাশের বাড়ির স্নিগ্ধার প্রেমে পড়া
চিরচঞ্চল অনুভবে প্রাণে মনে প্রানপণে ছুটে চলা
দূর্নিবার আকর্ষণ জাগানিয়া যা কিছু পেয়েছি,
তাকেই ভেবেছি সুখ।
কখনো ডুবে গেছি মগ্ন চৈতন্যে,
যাচিত যা কিছু ম্রিয়মান হতে থাকে যেমনটি ঘটে
হঠাৎ পথের মাঝে হারিয়ে গেলে চিরচেনা পথ।

সুখ তৃপ্তিতে শান্তিতে দানে নাকি প্রতিদানে
সেকি আশ্বাদে, সম্ভোগে সঞ্চয়ে নাকি দর্শনে দৃষ্টিতে,
অথবা প্রদর্শনে সুঘ্রানে!
সেকি কৃতিত্বে সুকর্মে অথবা আনন্দে কোলাহলে, জানা নেই।
প্রশ্ন করি প্রকৃতিকে-
প্রশ্ন করি হে গিরীন্দ্র, কোথায় সুখ?
বলে সে তো আমার শিখরে,
বৃক্ষ বলে না না সুখ আমার শেঁকড়ে,
সূর্য বলে অজ্ঞান- সুখ সেতো আমার-ই প্রদীপ্ত কিরণে,
চাঁদ বলে সুখ-আহা, সেতো আমার্-ই স্নিগ্ধ জ্যোছনা ধরনে।
সাগরের কাছে বলি কোথা আছে সুখ?
জবাব; তারই অতল গভীরে,
মাটি বলে সুখ? সে আমার উঞ্চ গহ্বরে
ফুল বলে, ভালবেসে শুঁকে দ্যখো
সুখ পাবে নিশ্চিত আমার সৌরভে।

বিপুল বিত্তবৈভবে খুজেঁছি পাইনি তারে,
যখন দৈবাৎ দেখা হলো অলীক স্বপ্নের ঘোরে
আমি যেন আমি নই কোনে এক অন্য গ্রহচারী
দেখি হাতছানি দিয়ে ডাকে, আমি শক্তিহীন থমকে দাড়াই,
তখনি অদৃশ্যে মিলিয়ে যায় সে,
হায়! সেকি শুধুই হ্যাল্যুসিনেশন।
সুখ কি কেবলি তাহলে অলীক আশার বসতি মনোলোকে!
এ কি কেবলি ছায়ার খেলা এক নিদারুণ রসিকতা!
কাল থেকে কালান্তরে শুধু কেনো একই কথা,
একই আক্ষেপ-হায়, সুখ নাই, সুখ নাই……
ধ্বণীত প্রতিধ্বণীত অনন্তকালের গভীর তিমিরে,
অনাদীকালের মর্মর ধ্বণী হয়ে
অনুরণীত হতে থাকবে ত্রিলোকব্যাপি,
অনন্ত বেদনার সকরুণ কোলাহলে!

০৬/০৯/১৯/সত্যের সৈনিক/জহিরুল বিদ্যুৎ

Leave A Reply

Your email address will not be published.