অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

কার অভিযোগে ডেসটিনি গ্রুপ অবরুদ্ধ? -মোশাররফ হোসেন

একটি দেশের প্রধান শক্তিই হলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি একটি দেশকে স্বয়ংসম্পন্ন হতে এবং উন্নয়নের শীর্ষে অবস্থান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটির প্রতি সবার সজাগ দৃষ্টি অতীব জরুরি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমাদের দেশে এই বিষয়টির প্রতি তেমন একটা গুরুত্ব পরিলক্ষিত হয় না। সবাই যেন যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। সমাজ, দেশ কিংবা জাতির উন্নয়নে ভাববার লোকের আজ বড়ই অভাব। শুধু তা-ই নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যখন তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করে এবং তার ভিত্তিতে কোনো প্রকার বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই যদি সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবরুদ্ধ করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখ ও হতাশাজনক আর কিছু হতে পারে না। আরো কষ্ট লাগে যখন কেউ একবারও ভাববার প্রয়োজনবোধ করে না যে এর দ্বারা একটি দেশ কতটা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়! যেমনটি হয়েছে এ দেশের সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান ডেসটিনি গ্রুপের বেলায়।

বিপুল জনগোষ্ঠীসংবলিত এই গ্রুপ অব কোম্পানিটিকে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তমূলক অভিযোগের ভিত্তিতে অবরুদ্ধ করে বিচারের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে দীর্ঘ ছয়টি বছর ধরে। এতে শুধু ওই কোম্পানিটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, দেশও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে এর সাথে সংশ্লিষ্ট ৪৫ লাখ অসহায় জনগোষ্ঠী। দীর্ঘ সেই ছয়টি বছর ধরে ডেসটিনি গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটাই প্রশ্ন, কার স্বার্থে এবং কার অভিযোগে ডেসটিনি গ্রুপ অবরুদ্ধ?

স্বাভাবিক অবস্থায় ডেসটিনি গ্রুপে তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের পণ্য বিপণনে নিয়োজিত ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক স্বনিয়োজিত ব্যবসায়ীরূপে জীবিকা অর্জনে নিয়োজিত থেকে ২০০১ সালে শূন্য থেকে শুরু করে ২০০৬ সাল নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি সর্বমোট কর দিয়েছিল কমবেশি ১০ (দশ) লক্ষ টাকা । ২০০৭-২০০৮-এক-এগারো সরকারের আমলে কর দিয়েছিল ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা । অথচ ২০০৯-২০১১ সালে এই তিন বছরে মোট কর দিয়েছিল প্রায় ৪১০ কোটি টাকার মতো সরকারকে ট্যাক্স-ভ্যাট প্রদান করেছে, যা দেশের অগ্রগতিতে এবং অর্থনৈতিক খাতকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিল। একই সঙ্গে তাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সচ্ছল ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু কিছু হলুদ মিডিয়ার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গভীরভাবে অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ না করেই মিডিয়ার দোহাই দিয়ে মামলা করলে, মাঝপথে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে গ্রুপটিতে কর্মরত তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়ে, দুর্বিষহ হয়ে পড়ে ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের যাপিত জীবন। যদি ডেসটিনিকে অবরুদ্ধ করা না হতো, তাদের কার্যক্রম সচল রেখে আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতো, তাহলে এ যাবৎ তারা অন্তত আরো কমবেশি এক হাজার কোটি টাকা সরকারকে ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে দেশের অগ্রগতিকে আরো ত্বরান্বিত করতে পারত। দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ অবস্থায়ও জানা গেছে ডেসটিনি গ্রুপের মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫ (পাঁচ) হাজার কোটি টাকার মতো, যা প্রক্রিয়া করে উন্নয়ন করা গেলে সম্পদ মূল্য দাঁড়াবে কমবেশি ১০ (দশ) হাজার কোটি টাকা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ডেসটিনি গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্টরা আজও পর্যন্ত কেউ কখনো বলেনি যে ডেসটিনি তথা ডেসটিনির শীর্ষ পরিচালকদের দ্বারা তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; বরং তারা অসংখ্যবার সারা দেশে মানববন্ধন, স্মরকলিপিসহ বিভিন্ন পোগ্রামের মাধ্যমে বলেছে, আমরা ডেসটিনি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত নই, ডেসটিনিতে আমাদের বিনিয়োগ নিরাপদ, আমরা ডেসটিনিতে কাজ করতে চাই। শুধু তা-ই নয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান জনাব গোলাম হোসেন তৎকালীন সময়ে সাংবাদিকদের নিকট এক সাক্ষাৎকারে ডেসটিনি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ডেসটিনি-সংশ্লিষ্টদের কোনো অভিযোগ আমরা এখনো পর্যন্ত পাইনি; শুধু আপনাদের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ পরিলকদের এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

অন্য এক সাক্ষাৎকারে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ডেসটিনি বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, আমার কাছে ডেসটিনি বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই, শুধু পত্রপত্রিকায় ডেসটিনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ দেখছি। তার পরও বিষয়টি দুদক তদন্ত করছে। এই বিষয়ে না জেনে কোনো প্রকার মন্তব্য করা যাবে না। যদি তা-ই হয়, তাহলে প্রকৃত অর্থে ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে আসল অভিযোগকারী কে? দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, শুধু কিছু মিডিয়া অনুমাননির্ভর ও মনগড়া তথ্য প্রচার করে তাদের অপসাংবাদিতকা প্রদর্শন করেছে। এখন প্রশ্ন হলো একটি গ্রুপ অব কোম্পানিকে ধ্বংস করে দেওয়ার পেছনে তাদের কী উদ্দেশ্য রয়েছে? এটা কি দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি নয়? এটা সভ্য সাংবাদিকতার পরিচয় বহন করে না। আর কোনো বিষয়ে না জেনে অনুমাননির্ভর অভিযোগ করা কোনো সভ্যতার মধ্যে পড়ে না। তা ছাড়া এরা অভিযোগ করবেই বা কেন! এখানে তো মিডিয়ার কোনো বিনিয়োগ নেই! তাহলে কি কিছু মিডিয়ার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে তাদের এই অপপ্রচার? যদি তা-ই হয়, তাহলে এই হলুদ সাংবাদিকতার কারণে রাষ্ট্রের যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো এবং ছয় বছর ধরে ডেসটিনি গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশকদের সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির দায়ভার কে নেবে?

এক সাক্ষাৎকারে কয়েকজন ভুক্তভোগী উপরিউক্ত বিষয়গুলো বর্ণনা করেন এবং গত ছয় বছরের আরো বিভিন্ন ধরনের কষ্টের কথা বলতে বলতে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা আরো বলেন, মহামান্য বিচারালয়ের কাছে আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দীর্ঘ ছয় বছর ধৈর্য ধরে আছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রেসক্লাবের সামনে অসংখ্য মানববন্ধন করেছি।

১৪ ডিসেম্বর ২০০০ সালে কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীনে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত ডেসটিনি গ্রুপের মাতৃ-কোম্পানি ডেসটিনি-২০০০ লি. ডাইরেক্ট সেলিং পদ্ধতিতে পণ্য বিপণন ব্যবসায়ে নিয়োজিত থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩৫টি সহযোগী কোম্পানি নিয়ে ডেসটিনি গ্রুপ পরিচালিত হতে থাকে। গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো : ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড, বৈশাখী টেলিভিশন, দৈনিক ডেসটিনি, ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেড, ডেসটিনি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ক্রেতা-পরিবেশকদের নামে অভিহিত সমবায় সমিতি, যার শেয়ারহোল্ডার ৮.৫৫ লাখ, পরিশোধিত মূলধন ১৩৮১ কোটি টাকা)। আরো যে প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলো হলো : ৮টি নির্মাণ কোম্পানি, ৩টি বিমান পরিবহন কোম্পানি, ৮টি কৃষি ও শিল্প-উৎপাদন কোম্পানি ও ১১টি অন্য খাতের কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট পরিশোধিত মূলধন ১৬৩৫ কোটি টাকা। এই কোম্পানিগুলোর মোট শেয়ারের ৪৯ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশের মালিক উল্লিখিত সমবায় সমিতি যথা ডেসটিনি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, অবশিষ্ট অংশের মালিক ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডসহ যৌথ মালিকানাধীন কয়েকটি কোম্পানি। বাকি সামান্য অংশের মালিক কয়েকজন পরিচালক।
ডেসটিনি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদসমূহ : ঢাকা শহরসহ ৭টি বিভাগীয় শহরে অবস্থিত ৪২০ বিঘার অধিক জমি। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় আবাসিক এপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক বনায়নসহ প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট জমি রয়েছে।

দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, পরিচালকদের বিরুদ্ধে ডেসটিনি গ্রুপের শেয়ারহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের কোনো প্রকার অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কিছু মিডিয়া তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হলুদ সাংবাদিকতা প্রদর্শন করে। তাদের মিথ্যা, বানোয়াট, অনুমাননির্ভর, ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে, যে মামলার অভিযোগ আজও প্রমাণিত হয়নি। শুধু বিচারের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। কথায় আছে ‘বিলম্বিত বিচারব্যবস্থা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী’ । উল্লেখ্য,
* ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে বিনা বিচারে ছয় বছরের অধিক সময় ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

* কোনো অভিযোগ ছাড়াই ডেসটিনি গ্রুপের ৫৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

* কোনো অভিযোগ ছাড়াই একতরফাভাবে ডেসটিনির সব সম্পদ ক্রোক করে রাখা হয়েছে, যার ৯৯ শতাংশ মালিকানা ডেসটিনির ক্রেতা পরিবেশকদের একাংশের। শুধু শহরে অবস্থিত সম্পদগুলোর সুরক্ষার জন্য পুলিশ কমিশনার মহোদয়কে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৫৯৫৯ একরে রোপিত ৮২.২৫ লাখ গাছের সুরক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

* একদিকে ৫৩৩টি ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে ডেসটিনির সব আর্থিক ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, অপরদিকে ৩২টি বাগানের ৮২.২৫ লাখ গাছ অরক্ষতি অবস্থায় থাকায় তার প্রায় ৮০ শতাংশ গাছই স্থানীয় চোর, ডাকাত ও দখলবাজদের দ্বারা ডাকাতি বা লুট হয়েছে। এদিকে বেতন বা কোনো ধরনের পারিশ্রমিক না পেয়ে বাগান সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলে যাওয়ায় বাকি গাছগুলো দুর্বৃত্তদের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে। এতে ডেসটিনি গ্রুপের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

* প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি চাকরিরত ৩০০০ ব্যক্তি এবং ব্যবসাসূত্রে নির্ভরশীল ৪৫ লাখ স্বনিয়োজিত ব্যক্তিকে উপার্জনহীন করায় তাদের পরিবারসহ প্রায় তিন কোটি মানুষকে মানবেতর জীবনে এমনভাবে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা মনে করে যে তাদের এই দুর্দশার জন্য স্বয়ং সরকার দায়ী। কিছু মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দুদকের এই সিদ্ধান্তের কারণে দেশের উন্নয়ন এবং সরকারের জনপ্রিয়তার ওপর প্রভাব পড়ছে।

সার্বিক দিক বিবেচনা করলে ডেসটিনির সমস্যার সমাধান এখন সময়ের দাবি। কারণ ২০১২ সালে ডেসটিনির বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় এক বছর সময় ধরে মানিলন্ডারিংয়ের তদন্ত করে তার কোনো প্রমাণ দেননি। এ ছাড়া ২০১২ সালে তিন মাস ধরে বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা তৃণমূল পর্যায়েও ডেসটিনির ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তদের মতামত নিয়ে এবং বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করে তৎকালীন সভাপতি ড. মিজানুর রহমান মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডেসটিনির ব্যবসা পদ্ধতি অত্যন্ত জননন্দিত। তাঁর কথার প্রমাণ হিসেবে আজ পর্যন্ত একজন গ্রাহকও পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ করেননি; বরং তারা পরিচালকদের মুক্তির জন্য জাতীয় প্রেসকাবসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সামনে অসংখ্যবার মানববন্ধন করেছেন। এ দৃশ্যটি যেমন অবাক হওয়ার মতো, তেমনি শীর্ষ পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন, মোহাম্মদ হোসাইন ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন অর রশিদ, বীর প্রতীক (অব.) সহ এই শীর্ষ পরিচালকদের কোর্টে গিয়ে আত্মসমর্পণও সততার পরিচয় বহন করে।

তাই ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ডেসটিনির শীর্ষ দুই কর্ণধারকে মুক্তি জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় এবং সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ ও দেশীয় উদ্যেক্তাদের অংশগ্রহণ না থাকলে দেশের উন্নয়ন সহজ হয় না। ডেসটিনি মুক্ত হলে তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক খাতকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক : সাংবাদিক ও সমাজবিশ্লেষক

১২ মে ২০১৮/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.