অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা -এম এ মোতালিব

বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় মুহূর্তেই জনগণের বন্ধু হিসেবে পাশে এসে দাঁড়ায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম জনগণের সেবায় নিবেদিত। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার অবিভক্ত ভারতে ১৯৩৯-৪০ অর্থ সালে ফায়ার সার্ভিস সৃষ্টি করেন। বিভক্তিকালে আঞ্চলিক পর্যায়ে কলকাতা শহরের জন্য কলকাতা ফায়ার সার্ভিস এবং অবিভক্ত বাংলায় বাংলার জন্য বেঙ্গল ফায়ার সার্ভিস সৃষ্টি করেন। ১৯৪৭ সালে এ অঞ্চলের ফায়ার সার্ভিসকে পূর্ব পাকিস্তান ফায়ার সার্ভিস নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৫১ সালে আইনি প্রক্রিয়ায় সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর তৈরি হয়।
১৯৮২ সালে তৎকালীন ফায়ার সার্ভিস পরিদপ্তর, সিভিল ডিফেন্স পরিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্ধার পরিদপ্তর -এই তিনটি পরিদপ্তরের সমন্বয়ে বর্তমান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরটি গঠিত হয়। তখন থেকেই এ প্রতিষ্ঠানটি গতি, সেবা ও ত্যাগের মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে কার্যক্রম শুরু করে। এ বিভাগের কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ, অগ্নিপ্রতিরোধ, উদ্ধার, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে প্রেরণ ও দেশি-বিদেশি ভিআইপিদের অগ্নিনিরাপত্তা বিধান করে থাকেন। এ বিভাগের প্রতিটি কর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ফায়ার সার্ভিস :
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনগুলো থেকে যেসব সেবা দেওয়া হয়, সেগুলোর বেশির ভাগই অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং রোগী পরিবহন সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ। বাসাবাড়ি, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানাসহ যেকোনো স্থানে সকল প্রকার অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে নিয়োজিত সদস্যরা সদা প্রস্তুত। যেহেতু অগ্নিনির্বাপণের চেয়ে অগ্নিপ্রতিরোধ উত্তম, সেহেতু অগ্নিপ্রতিরোধের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, স্থাপনাসমূহে ব্যবহৃত দাহ্য পদার্থের মাত্রানুযায়ী সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি বিবেচনা করে বিদ্যমান অগ্নিনির্বাপণী ব্যবস্থা পরিমাপ করে যথার্থতা সাপেক্ষে মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ ও প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জনসম্মুখে প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া অগ্নিদুর্ঘটনাসহ যেকোনো প্রকার দুর্ঘটনায় আটকে পড়া বিপন্ন মানুষদের আধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে কার্যকরভাবে উদ্ধারে সদাতৎপর এবং উদ্ধার-পরবর্তী আহতদের সেবা প্রদান ও তাদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণে ভূমিকা পালন করে থাকে। নৌ-দুর্ঘটনায় বা যেকোনো প্রকারে পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের রয়েছে প্রশিক্ষিত ডুবুরি বাহিনী। এ বাহিনীও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেকোনো উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

নিচে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেবার কথা তুলে ধা হলো :

* প্রশাসনিক নির্দেশনা বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছান
* অপারেশন কর্মকান্ড নির্দেশনা
* যেকোনো দুর্ঘটনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংবাদ এলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ তথা সংশ্লিষ্ট স্টেশনকে অবহিত করা এবং গমনকৃত গাড়ি পাম্পের সাথে যোগাযোগ করে সামগ্রিক সহযোগিতা প্রদান
* দুর্ঘটনা-পরবর্তী অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা প্রদান
* গণমাধ্যমের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও চাহিদা মোতাবেক তথ্য সহযোগিতা প্রদান
* সরকারি বিভিন্ন জরুরি সংস্থার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা
* জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য প্রদান যা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে
* দুর্যোগকালীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সহযোগিতা করার জন্য যোগাযোগ রক্ষা করা
* প্রাত্যহিক বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে স্টেশনগুলোর গাড়ি পাম্প ও জনবলের অবস্থার তথ্য ও সমস্যা থাকলে তা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ করা
* যেকোনো অগ্নি দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কাজ করার পর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণী ওই দপ্তরে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ থাকে
* কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারা দেশের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নম্বরসমূহ পাওয়া যায়।
এসব নানাবিধ কাজে সার্বিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিটি কর্মী নিবেদিতপ্রাণ। তাই সবার উচিত এদের প্রতিটি কাজে সার্বিক সহযোগিতা করা, যাতে তারা দুর্যোগ মুহূর্তে এসব দায়িত্ব পালনে নিজেদের আন্তরিক প্রদর্শন করতে পারে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

৩ মে ২০১৯/সত্যের সৈনিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.