অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

শুদ্ধ ভাষা থেকে সরে যাচ্ছি না তো! -এম এ মোতালিব

বাংলা ভাষা আমাদের মায়ের ভাষা, হৃদয়ের ভাষা। এ ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। কিন্তু যে ভাষার জন্য আমরা বুকের রক্ত দিতে কুণ্ঠিত হইনি, সে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতি প্রায়ই মানা হয় না বলে মনে হয়। বিভিন্ন নাটক-সিনেমা কিংবা কোনো টেলিফিল্মের ডায়লগ শুনে মনে হয় সেখানে কোনো শুদ্ধ ভাষার চরিত্র রাখাই হয় না বলা চলে। বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে শিক্ষিত মানুষ যে ভাষায় কথা বলে, অশিক্ষিত মানুষও সে ভাষায় কথা বলে, যা অহরহ পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক লেখা হয় এবং সেভাবেই সেটা বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। কিন্তু চরিত্রের মধ্যে একজন শিক্ষিত মানুষের ভাষাও একইভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা কাম্য নয়। গ্রামের একজন মাস্টারের চরিত্র কিংবা চেয়ারম্যানের চরিত্রেও দেখা যায় একই ভাষায় কথা বলছেন তাঁরা। সেখানে কোনো পার্থক্যই রাখা হয় না বলা চলে। শিক্ষিত-অশিক্ষিতের ভাষার মধ্যে পার্থক্য রাখলে এবং কোন ডায়লগে কার ভাষা কেমন হবে, সে বিষয়ে দৃষ্টিপাত করলে মনে হয় সে নাটক আরো উপভোগ্য হবে, আনন্দদায়ক হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এবারের ঈদে বেশ কয়েকটি চ্যানেলে যে কয়টি নাটক বা টেলিফিল্ম দেখলাম, প্রায় সবটিতেই একই ধারাবাহিকতার অবতারণা দৃশ্যমান হলো। নাটকের নামগুলোও ছিল অনেকটা মানহীন ও অদ্ভুত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এ বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য নিবেদন রইল। কারণ এসব থেকে তারা অনেক কিছু গ্রহণ করবে, অনেক কিছুর অনুসরণ করবে। আমরা তাদের যা দেব বা যা শেখাব, তারা তা-ই গ্রহণ করবে বা শিখবে।
এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষা শুনলে অবাক না হয়ে উপায় থাকে না। ‘খাইছস, হুনছস, গেছস, কইছস, আইছস, পড়ছস, নিছস’ এই হলো তাদের কথোপকথনের শ্রী। এগুলো নিশ্চয়ই সবার নজরে আসে! আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও অবলীলায় এগুলোতে অভ্যস্ত হচ্ছে দিনের পর দিন, যা রীতিমতো হতাশাজনক।
এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তকে বানান ও ভাষার ব্যবহার দেখলে খুবই কষ্ট লাগে। এত উদাসীনভাবে বানান ও ভাষার ব্যবহার করা হয়, যা রীতিমতো আপত্তিকর। দীর্ঘ দিন থেকে এ বিষয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু সচেতনতা ফিরে আসছে না তেমন একটা। এ বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ কর্তৃপক্ষ এখনই দৃষ্টি না দিলে আমরা হয়তো অচিরেই ভুল বা অসংগতির বেড়াজালে হারিয়ে যাব। নিশ্চয়ই এটা কারো কাম্য নয়।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

৯ জুন ২০১৯/সত্যের সৈনিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.