অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

শুধু নীতিবাক্য দিয়ে দেশ চলে না, চাই আইনের শাসন- মোশাররফ হোসেন

সম্প্রতি বহুল প্রশংসিত বিডি ক্লিন নামে একটি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিষ্কর-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দায়িত্ব নিয়ে করছে। তাদের স্লোগান হলো ‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাথে চাই আপনাকেও’ । অথচ এ কাজটি করার জন্য সরকারের একটি নির্দিষ্ট অধিদপ্তর রয়েছে, যাদের সরকারি কোষাগার থেকে মোটা মাইনে দিয়ে লালন-পালন করা হচ্ছে। হ্যাঁ, দেশের মধ্যে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, যে সংগঠনগুলো নিজ উদ্যোগে বিবেকবোধ থেকে এগুলো করে থাকে। যারা জনগণের অর্থে উদর পূর্তি করছেন, তাদের কি সামান্যতম দায়িত্ববোধ নেই? তারা কি বিবেকবোধ থেকে এ কাজগুলো করতে পারেন না? এই কাজগুলো যদি একটি সংগঠন করে থাকে, তাহলে তারা কী করবে বলুন তো? প্রতিটি শহর, নগর ও মহানগরে সমন্বয়হীনতার অভাবে ওয়াসা, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং টিএনটির দায়িত্বশীল(!) লোকেরা উন্নয়নের নামে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে প্রতিনিয়ত। অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি তো লেগেই আছে জনজীবনকে দুর্বিষহ ও ভোগান্তির চরমসীমায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এসব কারণে যানজটের কবলে পড়ে নগরজীবনের অধিকাংশ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। সেদিকে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এটা উন্নয়নের চরম অন্তরায়। তাই আমার মতে, সচেতন নাগরিকদের কাজ হচ্ছে, যেখানে অন্যায়-অনিয়ম হবে বা যেখানে কোনো নাগরিক অধিকার থাকবে না, সেখানে গণসচেতনতা গড়ে তোলা। এটা প্রত্যেকের নৈতিকবোধ থেকে করা উচিত বলে আমি মনে করি। আর তখনই দেশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন মিলবে নির্দ্বিধায়।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না করে শুধু নীতিবাক্য আর আবেগ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। অথচ অহরহ দেখা যায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা মুখে নীতিবাক্যের বুলি আউড়ে অন্যায়-অনিয়ম রোধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে। এটা দিয়ে কি আদৌ কোনো সমস্যার সমাধান হবে? নাকি কখনো হয়েছে? শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিংবা উদ্যোগে পৃথিবীর উন্নত কোনো দেশের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না আমার জানা নেই । আমাদের দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কিংবা সুশীলসমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কী উন্নত কোনো দেশে যান না? উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থা তারা দেখেন না? যদি দেখে থাকেন, তাহলে আইন প্রয়োগ না করে এসব নীতিবাক্য বলার মানে কী! পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অনুসরণ-অনুকরণ করলে কী ইজ্জত চলে যাবে? বরং লাভই হবে সমাজব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে বহুলপ্রচলিত একটি বাক্য রয়েছে, যা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। তা হলো, ‘মানুষ সচেতন হলে, দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে দেশ এমনিতেই বদলে যাবে।’ এই আশায় আজও আমরা বসে আছি। সরকারের হাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পারছে না কেন? তারা না পারলে কে পারবে? তাহলে সরকার, আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনটাই বা কী? প্রতিটি উন্নত দেশের সরকার তাদের দেশের প্রচলিত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে গড়ে তোলে। একপর্যায়ে সেই শৃঙ্খলাই তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। তার পরও কোনো নাগরিক ভুলবশত শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটালে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে কি তা হচ্ছে? এ প্রশ্নটা কিন্তু জনমনে থেকেই যায়। তাই সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিনীত অনুরোধ, আপনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে দেশের হাল শক্ত হাতে ধরেছেন। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করেছেন। অকুতোভয় আপনি। নিজের জীবনকে বাজি রেখে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যার অসংখ্য নজির রয়েছে। তাই সামনের দিনগুলোতে দুর্নীতির মূলোৎপাটন ঘটিয়ে, অন্যায়কে নির্মূল করে যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছি। এটা এখন সময়ে দাবি।

লেখক : সমাজবিশ্লেষক ও সাংবাদিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.