অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আহত ২৫

মোখলেছুর রহমান, ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে মোটরশ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ৯ জুন রোববার সন্ধ্যায় ৭.৩০ মিনিটে ভূরুঙ্গামারী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে।
স্থনীয় ও প্রত্যক্ষ দর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী থানার এএসআই আমিনুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সিভিল পোশাকে একজন আসামি ধরে নিয়ে আসার সময় ভূরুঙ্গামারী বাস টার্মিনালে জ্যামের মধ্যে আটকা পড়ে। পুলিশের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সদর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সহসভাপতি আরিফের কাছে সাইট চাইলে জ্যামের কারণে আরিফ অপরাগতা প্রকাশ করে। তখন একজন পুলিশ কনস্টেবল তেড়ে এসে আরিফের নাকে ঘুষি মারলে সে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। এতে আরিফের নাক ফেটে রক্ত বের হলে স্থানীয় শ্রমিক-জনতা প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে সাধারণ পোশাকের পুলিশ সদস্যদের সাথে বাগবিতন্ডতা শুরু হয়। এ সময় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের (৩১৪) এর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে পুলিশ মিজানের সাথে খারাপ আচরণ করে। এতে অন্যান্য শ্রমিক নেতাসহ স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ পোশাকের পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা থেকে ১৪/১৫ জন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে মোটরশ্রমিক ও স্থানীয় লোকদের সাথে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিক রাবার বুলেট ছোড়ে ও নির্বিচারে লাঠিচার্জ করতে থাকে। থেমে থেমে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে। পরে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ভূরুঙ্গামারী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ঢাকাগামী কোচসহ সকল ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় ঢাকাগামী যাত্রী, পথচারী ও মোটর শ্রমিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতদের ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বর অবস্থায় ০৯ জনকে ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. এ এস এম সায়েম জানান, ০৯ জনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আর কয়েকজনকে প্রথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন আমির আলী (৬০) মানিক মিয়া (২৮) আঃ কাদের (৬০) বাবু (২৯) সুশান্ত (২১) আঃ রহমান (৫০) প্রমুখ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে মোটরশ্রমিক ও স্থানীয় জনতা এর প্রতিবাদ করে। কিন্তু পুলিশ সমপূর্ণ অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগ করে হামলা চালায়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুন্নবী চৌধুরী খোকন ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের সাথে সংঘটিত ঘটনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর গুলি বা রাবার বুলেট ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি।

১১ জুন ২০১৯/সত্যের সৈনিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.