অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক কারখানা শ্রমিকদের বিক্ষোব

সত্যের সৈনিক অনলাইন : সত্যের সৈনিক অনলাইন : গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ‘সহকর্মীদের মৃত্যুর গুজবে’ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছে।

শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের ফলে টঙ্গী থেকে সালনা পর্যন্ত সড়কে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। এই সময়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটনাও ঘটে। সড়কের দুই দিকে তৈরি হয় ব্যাপক যানজট।

পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ডেগেরচালা এলাকায় নিট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা শনিবার থেকেই বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন।

এর মধ্যে শনিবার রাতে কারখানার পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে রোববার সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এলে পরিস্থিতি বিস্ফোরন্মুখ হয়ে ওঠে।

গাছা থানার ওসি কাজী ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদের আগে ওই কারখানায় অগাস্ট মাসের অর্ধেক বেতন দেওয়া হয়। বাকি টাকা ১২ সেপ্টম্বর দেওয়ার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা না পারায় শনিবার শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে।

শনিবার রাত ১০টার দিকেও তারা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিন্তু এর মধ্যেই শনিবার রাতে কারখানার পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসে।

কারখানার শ্রমিক আমেনা বেগম বলেন, “আমাদের বেতন না দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ করখানা বন্ধের পাঁয়তারা করছিল। শ্রমিকদের যাতে বেতন না দিতে হয়, সেজন্য কৌশলে তারা ট্যাংকের পানির সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। ওই পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

এর জের ধরে নিট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেডের কর্মীরা রোববার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এর মধ্যে পানি খেয়ে অসুস্থ কয়েকজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এ সময় নিটেক্স কারখানাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাংচুর চালানো হয়। আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা পরে বিক্ষোভে যোগ দিলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের বড় একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ কয়েক দফা শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশকে টিয়ার শেল ছুড়ে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে বেলা আড়াইটার দিকে মহাসড়কে আবার যান চলাচল শুরু হয় বলে গাছা থানার ওসি কাজী ইসমাইল হোসেন জানান।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের এএসপি আমিরুল আলম বলেন, “পানি পানে মৃত্যুর বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। কারও মারা যাওয়ার খবরের কোনো সত্যতা আমরা পাইনি।”

এদিকে দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ওই এলাকা পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

বেলা ২টা থেকে ডিগ্রি পরীক্ষা থাকায় রাস্তায় বেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সময় জটিলতায় পড়েন অনেকে।

টঙ্গী সরকারি কলেজের একজন ছাত্রী জানান, তাদের সিট পড়েছে ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছোতে তার ১৫ মিনিটের মত দেরি হয়ে যায়।

ভাওয়াল বদরে আলম কলেজের অধ্যক্ষ জেরিন সুলতানা বলেন, “পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২টায়। রাস্তার গণ্ডগোলের কারণে অনেক পরিক্ষার্থী আসতে দেরি হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে বাড়তি কোন সময় দেওয়ার নিয়ম নেই।”

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮,সত্যের সৈনিক/মো. ইমরান

Leave A Reply

Your email address will not be published.