অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

থাইরয়েড সমস্যা ও তার প্রতিকার জেনে নিন

সত্যের সৈনিক অনলাইনঃ যদিও থাইরয়েড বলতে আমারা একটি শব্দই বুঝি, কিন্তু এ দুই প্রকারের হয়। প্রথমটি “হাইপোথাইরডিসম” এবং দ্বিতীয়টি “হাইপারথাইরডিসম”। থাইরয়েড হরমোনের অপর্যাপ্ত ক্ষরণ দ্বায়ী হাইপোথাইরডিসমের জন্য, অপরদিকে থাইরয়েড হরমনের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণকে হাইপারথাইরোডিসম বলে। যদিও, এই অনিয়মিত থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণের আসল কারণ দেহে আয়োডিনের অভাব। কখোন কখোন এমন কিছু পরিস্থিতিতে পেতে পারেন, যেখানে গলগণ্ড, ক্যান্সার বা সিস্ট-এর মতোন কিছু গুরুতর অসুখও থাইরয়েড রোগের একটি সংকেত হতে পারে। এছাড়াও  খাদ্য এর অ্যালার্জি , রেডিয়েশন ও ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া , হরমোনের অসামঞ্জস্যতা ইত্যাদি।

থাইরয়েড একটি ছোট গ্রন্থি যেটি শরীরে প্রতিনিয়ত থাইরয়েড হরমোন নিঃসরন করে। থাইরয়েড হরমোন আপনার শরীরের অনেক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সহ কিভাবে দ্রুত আপনার ক্যালোরি বার্ন এবং কত দ্রুত আপনার হৃদয়স্পন্দন হবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ হরমোন স্বাভাবিক পরিমানের চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরনের কারণে বিভিন্ন রকমের থাইরয়েড রোগ দেখা দেয়। বেশী নিঃসরন এর কারণে যে রোগ তাকে হাইপারথাইরয়ডিজম এবং কম নিঃসরন এর কারণে রোগকে হাইপোথাইরয়ডিজম বলে।

থাইরয়েড রোগের ঝুঁকি:
১. ডায়াবেটিস বা অন্য অটোইমিউন ব্যাধি
২. থাইরয়েডগ্রন্থীতে অথবা অন্য রেডিয়েশন
৩. থাইরয়েড ব্যাধির পারিবারিক ইতিহাস
৪. গর্ভাবস্থা বা মেনোপজ এর সময় হরমনের পরিবর্তন
৫. নারীরা থাইরয়েড রোগে ৪০ শতাংশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ
৬. প্রকোপ অল্প বয়সীদের তুলনায় মধ্য বয়স্ক মহিলাদের বেশি।

হাইপারথাইরয়ডিজমের প্রাথমিক উপসর্গ:
# ওজন কমে যাওয়া
# তাপ অসহিষ্ণুতা
# ডায়রিয়া
# শরীরে কাঁপুনি
# অস্বস্তিবোধ করা
# বেশী বেশী ঘাম হওয়া
# ঘুমের ব্যাঘাত
# অবসাদ

হাইপোথাইরয়েডিজমের প্রাথমিক উপসর্গ:
# অবসাদ, ওজন বৃদ্ধি
# ঠান্ডা অসহিষ্ণুতা
# শুষ্ক অথবা ভঙ্গুর চুল
# স্মরণশক্তির সমস্যা
# বিরক্ত এবং বিষণ্নতা
# উচ্চ কলেস্টেরলের মাত্রা
# হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া
# পেশীর দূর্বলতা
# স্নায়বিক দুর্বলতা
# দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন

প্রতিরোধের উপায়:

# পর্যাপ্ত আয়োডিন জাতীয় খাবার খেতে হবে কারণ এটা থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।
# সয়াবীন পণ্য ভোজন সীমিত করতে হবে কারণ খুব বেশী সয়াবীন থাইরয়েড ফাংশন দমন করতে পারে।
# হাইপোথাইরয়েড এর সমস্যায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রুকলি এড়িয়ে চলা ভালো
# এক্সরে সাবধানতা বজায় রাখতে হবে।ম্যামোগ্রাম বা ডেন্টাল এক্স-রে করার সময় ঘাড় ঢেকে করা উচিত ।যদিও ঝুঁকি কম কিন্তু প্রতিনিয়ত কম ডোজ বিকিরণ থাইরয়েড ক্যান্সারে অবদান রাখতে পারে।
# ধুমপান ত্যাগ করতে হবে।এতে হাইপোথাইরয়েডিজম না হলে ও এর তীব্রতা এবং প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারে।

যদিও থাইরয়েডের রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে একাধিক চিকিৎসা রয়েছে, তবুও আপনি আপনার নির্ধারিত ওষুধের সাথে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার নিয়েও দেখতে পারেন। এই প্রতিকার গুলোর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, ফলে এগুলো ব্যবহারও নিরাপদ। ঘরোয়া প্রতিকারগুলির মধ্যে কিছু কিছু তো দুই ধরনের থাইরয়েডের সমস্যার জন্যই কার্যকর। থাইরয়েডের সমস্যার প্রতিকারের জন্য নিচে কিছু মুখ্য ঘরোয়া প্রতিকার, নিচে দেওয়া হল। এই প্রতিকারগুলির ব্যাবহার, আপনাকে অবশ্যই থাইরয়েডের সমস্যা নিরাময়ে, নিয়ন্ত্রণে ও নিবৃত্ত করতে সাহায্য করবে। আসুন দেখে নেওয়া যাক।
পালং শাকঃ  থাইরয়েডের সমস্যার প্রতিকারের দশটি মুখ্য ঘরোয়া প্রতিকারের মধ্যে অন্যতম হল পালং শাক। পালং শাক প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-এ দ্বারা সমৃদ্ধ, যা একজন মানুষের সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। থাইরয়েডের নিয়ন্ত্রণ এবং সমস্যার নিবারনে স্থিতি আনতেও সাহয্য করে ভিটামিন-এ। আপনার দেহে, থাইরয়েড-এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থিও থাইরয়েড ক্ষরণের জন্য ভিটামিন-এ ব্যবহার করে। ফলতঃ বোঝাই যাচ্ছে, থাইরয়েডের সমস্যার নিরাময়ে পালং শাক একটি অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকার।
কেল্পঃ  কেল্প একটি আয়োডিনসমৃদ্ধ সমুদ্র-শৈবাল, যা থাইরয়েড এর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। তাই স্যালাড বা সুপের সাথে মিশিয়ে, কেল্প অবশ্যই আপনার প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
নারকেল তেলঃ  থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণ যখন বেরে যায় তখন সাথেসাথে ইস্ট্রোজেনের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়, যা থাইরয়েড গ্রন্থির ক্রিয়াকে বাধা দেয়। নারকেল তেল এই অতিরিক্ত মাত্রায় এস্ট্রোজেনের উৎপাদন কে কমিয়ে আনে এবং দেহের বিপাক ক্রিয়ার হার বারিয়ে তোলে। ফলে আপনার সঞ্চিত মেদ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়ে যায়। থাইরয়েডের সমস্যার নিরাময়ে, ১ কাপ দুধের সাথে ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে রোজ সেবন করা আরেকটি অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকার।
হলুদঃ  বেশিরভাগ ভারতীয় খাবারে, হলুদ একটি অন্যতম প্রচলিত মশলা। হলুদে “কারকিউমিন” রয়েছে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তাই থাইরয়েডের সমস্যার নিরাময়ে, হলুদ খুবই কার্যকরী।
সাধারণ লবনঃ  সাধারণ লবন আয়োডিন সমৃদ্ধ হয়ে থাকে, যা থাইরয়েড ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই, আপনার রান্নাঘরের থেকেই প্রতিদিনের ব্যবহারের কিছু মশলা, থাইরয়েডের সমস্যার নিরাময়ে ও নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকর বলে প্রমানিত।
আদাঃ আদায় রয়েছে, “জিনজেরল” যা প্রদাহ নিরাময়ক হিসাবে পরিচিত। জিনজেরল, থাইরয়েড প্রদাহ উপশমেও সাহায্য করে আর তাই আদা থাইরয়েডের সমস্যার নিরাময়ের ১০ টি ঘরোয়া প্রতিকারের মধ্যে একটি।
ডিমের কুসুমঃ  ডিমের কসুম কপার সমৃদ্ধ হয়। কপার থাইরয়েড গ্রন্থির ক্রিয়াকে মসৃন রাখে ও থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণকে মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। তাই থাইরয়েডের সমস্যাকে কিনারা করতে ডিমের কুসুমকে প্রায়শই খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে।
যোগ ব্যায়ামঃ যোগ ব্যায়ামের কিছু নির্দিষ্ট আসন, থাইরয়েডের সমস্যার নিরাময়ে আশ্চর্যজনক ফল দেয়। যদিও এই যোগ ব্যায়ামের এই নির্দিষ্ট আসন গুলি সবসময় একজন যোগ ব্যায়ামের শিক্ষকের তত্ত্বাবধনে করা উচিৎ।
আখরোটঃ  আখরোট একটি সহজলোভ্য ড্রাইফ্রুট, প্রায় সব রান্নাঘরেই পাওয়া যায়। আখরোট ম্যাগনেশিয়াম ও আয়োডিনে সমৃদ্ধ, যা থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। ফলে, আখরোটও থাইরয়েডের সমস্যার নিরাময়ের আরেকটি ঘরোয়া প্রতিকার।

ব্যায়ামঃ  যদি আপনি থাইরয়েডের সমস্যার ভুগছেন, তাহলে এই সমস্যায় সমাধানে ব্যায়াম অন্যতম প্রধাণ একটি প্রতিকার। যদিও ব্যায়ামের সবসময় একজন ব্যায়ামের শিক্ষকের তত্ত্বাবধনে করা উচিৎ, নইলে তা আপনার পক্ষে হানিকারকও হয়ে উঠতে পারে।

পেয়াজঃ পেয়াজ  থাইরয়েড এর জন্য অনেক উপকারী , পেয়াজ খাওয়ার পাশাপাশি  পেয়াজ কেটে থাইরয়েড স্থানে ঘষলেও দ্রুত থাইরয়েড ভাল হয় ।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ । সত্যের সৈনিক। মোহাম্মদ রেজওয়ান

Leave A Reply

Your email address will not be published.