অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

পিত্ত থলীতে পাথরের লক্ষণ ও করণীয়

খাদিজা আক্তার : পিত্ত থলীতে পাথর হওয়া খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। চারপাশের অনেকের এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুনা যায়। এই পাথর কি সত্যি সত্যিই পথের কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি পাথরের মতো? না কি অন্য কিছু। আর কিভাবে এই পাথর সৃষ্টি হয়?

পিত্ত থলীর পাথর আসলে ছোট ছোট বালুর দানার মতো থেকে শুরু করে মটরের দানা বা তার চেয়েও বড় শক্ত দানাদার বস্তু। যা বিভিন্ন রঙের আর বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে। এটা নির্ভর করে কি পদার্থ দিয়ে পাথরটা তৈরি তার উপর। কোলেস্টরল, বিলুরুবিন বা ক্যালসিয়াম ইত্যাদি পদার্থের সংমিশ্রনে তৈরি এই পাথর গুলো। যা পিত্ত রসের সঙ্গে মিশানো অবস্থায় থাকে। হালকা বাদামী, কুচ কুচে কালো বা সাদাটে রঙের হতে পারে। পেটের ডান দিকে যকৃতির পিছনে ও তলার দিকে থাকে পিত্ত থলী। পিত্ত রস তৈরি করাই এর প্রধান কাজ। চর্বি জাতীয় খাবার হজম করতে পিত্ত রস দরকার হয়। নানা কারনে পিত্ত থলীতে বিভিন্ন পদার্থ অতিরিক্ত জমে গিয়ে পাথরের সৃষ্টি করে।

যাদের বেশি হয়ঃ ওজন আধিক্য ব্যক্তিদের পিত্ত থলীতে পাথর বেশি হতে দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই প্রবনতা অনেক বেশি থাকে। এছাড়া ৪০ এর বেশি বয়স, জন্ম নিয়ন্ত্রন বড়ি খাওয়া, অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার গ্রহণ ইত্যাদি এই ঝুকি বাড়িয়ে দেয়।

লক্ষণ : পিত্ত থলীতে পাথর হলে এতে প্রধাহ হয়। যাকে কোলেসিটাইসিস বলা হয়। তখন উপর পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এ ব্যথা মিনিট খানেক থেকে ঘন্টা খানেক স্থায়ী হতে পারে। ব্যথা পেটের পিছন দিকে , কাধের মাঝ বরাবর এমন কি বুকের ভিতরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে ধীরে ধীরে। সেই সঙ্গে বমি ভাব বা বমি , হালকা জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পাথর পিত্ত থলী থেকে বেরুতে গিয়ে পিত্ত নালীতে আটকে যায়। তখন বিলুরুবিনের বিপাক ক্রিয়া যাবার পথ বন্ধ হয়ে জন্ডিস ও হতে পারে। রোগ নির্নয়ের জন্য এই সব উপসর্গের পাশাপাশি আল্টাসনোগ্রাফিই যথেষ্ট। পাথরের অবস্থা জানতে বা বের করতে ডাক্তারের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তবে পেটের আলসার ও যকৃতের কোন সমস্যা এমন কি হৃদরোগের ও কাছা কাছি ধরনের ব্যথা ও হতে পারে। তাই এ গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

করণীয় : 

০১: প্রতিদিন নিয়মিত প্রায় দুই লিটার পানি পান করুন, এতে পুরো দেহে সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচল করবে, ফলে গলব্লাডার ও পিত্ত রসও কাজ করবে সঠিকভাবে।

০ ২: ব্লাডপ্রেসার, ডায়াবেটিস, কিডনীর অসুখ, ওজন, রক্তে ইনফেকশনের মাত্রা সর্বদা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এই অসুখগুলো বেড়ে গেলে পিত্তথলি সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেনা।

০৩:  যে কোন প্রকার মাদকদ্রব্য, ধূমপান অতিরিক্ত ফাস্টফুড, তেল, মশলা দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এসব বিষয়ে সচেতন হউন।

০ ৪: দীর্ঘ বছর যাবৎ জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী পিল, গর্ভনিরোধক পিল বা যৌনবর্ধক ওষুধ, যে কোন হরমোনের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাবেন না।

০ ৫: প্রচুর পরিমানে তিতা জাতীয় খাবার এবং শাক-সব্জি খান। আাঁশ জাতীয় খাবার সব মানুষের জন্য ভীষণ উপকারী।

০৬  : তেল, চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন। এই খাবার গুলোর বাড়তি তৈলাক্ত অংশ পিত্ত থলিতে জমে। দীর্ঘ বছরের পর বছর এমনভাবে তৈলাক্ত বর্জ্য বা কোলস্টেরল জমে গলব্লাডারে পাথর জমা হয। পিত্তরস গুলো সঠিকভাে কাজ করতে পারেনা। তরল পিত্ত শক্ত পাথরে পরিণত হয়। তখন খাবার হজমে ব্যাঘাত ঘটে। পরিণামে তখন পেটে ব্যথা হয়। মারাত্মক পরিণতিতে বুকে ব্যাথাও হয়।

০ ৭: পিত্তথলিতে ইনফেকশন হয়ে পুঁজ জমতে পারে। ইনফেকশান হলে জ্বর, জ্বর ভাব, পেটে ব্যাথা হয়, বমিও হতে পারে। মাঝে মাঝে যদি পেটের ডান পার্শ্বে ব্যথা হয় তবে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন। বছরে অন্তত একবার পুরো দেহের চেক আপ করান।

০ ৮ : প্রতিদিন একটি করে ফল খান। খাবারের তালিকায় মৌসুমী ফল অবশ্যই রাখুন। গলব্লাডার বা পিত্তথলির অপারেশানের পরে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করুন।

০ ৯: তারিখ পার হয়ে যাওয়া কোন খাবার বা ওষুধ খাবেন না। এই ধরনের খাবার বা ওষুধ কিডনী ও লিভারের কার্যক্ষমতা দূর্বল করে দেয়। আর লিভার বা কিডনীর কার্যক্ষমতা কমে গেলে, পুরো দেহে তার প্রভাব পড়ে। গলব্লাডারও সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা।

১০ : অনেকের গর্ভাবস্থায় পিত্তথলিতে পাথর হয়ে। এই বিষয়ে খেয়াল রাখুন। বংশগত বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও পাথর হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন বেশি বা যারা হঠাৎ করে খুব বেশি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন বা দীর্ঘ সময় যাবৎ না খেয়ে থাকেন, তারাও আক্রান্ত হতে পারেন পিত্তথলির পাথরে। তাই প্রথম থেকেই সচেতন হউন।

১০ আগস্ট ২০১৮/স‌ত্যের সৈ‌নিক/খাদিজা আক্তার

Leave A Reply

Your email address will not be published.