অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে চিংড়ি

সত্যের সৈনিক অনলাইনঃ  মাছ আমাদের অনেক প্রিয় খাবার ,  বাংলাদেশে সকল প্রকার মাছ পাওয়া যায়।নদী-নালা, খাল-বিল ইত্যাদি মাছে ভরপুর। প্রধান  আমিষ জাতীয় ৫ টি খাদ্যের মধ্যে মাছ হল অন্যতম প্রধান খাদ্য। আমরা আজ জানব এমনই একটি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে যা সকলেরই চেনা। এটি হল চিংড়ি। চিংড়ি খেতে যে অনেক স্বাদের, এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই আশা করি।  ছোট গুঁড়ো চিংড়ি থেকে শুরু করে বড় বড় চিংড়ি সবই খেতে মুখরোচক।

চিংড়ি কোন মাছ নয়। এটি জলাশয়ের একটি পোকা হলেও আমরা একে মাছ হিসেবেই ধরে নিই। এই চিংড়ি মাছে রয়েছে বিভিন্ন পুশটিগুন। চিংড়ি কয়েক প্রকার। গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি, দেশী চিংড়ি ইত্যাদি।  এই চিংড়ি মাছে রয়েছে অনেকগুলী পুষ্টি উপাদান। যা মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

চিংড়ি মাছের গুণাবলীঃ

ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ
চিংড়ি মাছে প্রায় ৫৭% সেলেনিয়াম থাকে। মাত্র ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছ থেকে অনেকটা সেলেনিয়াম পাওয়া সম্ভব। ইন্সটিটিউট বফ ফুড রিসার্চের গবেষকদের মতে এই সেলেনিয়াম দেহে ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাঁধা প্রদান করে থাকে। এই চিংড়িমাছের সেলেনিয়ামের সঙ্গে ব্রকলি, পাতাকপি, ফুলকপির সালফোরাফেইনের মিশ্রণ এই প্রতিরোধ আরও বাড়িয়ে তোলে।

আয়রনের অভাব দূর করেঃ

আয়রনের অভাবে অনেক সময় আমাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এই চিংড়ি মাছ আমাদের শরীরে আয়রনের অভাব দূর করতে পারে খুব সহজেই। কারন প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে ১৭% আয়রন। নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে আমাদের শরীরে আয়রনের অভাব দূর হয়ে যায়।

ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে
আমাদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রথম ও প্রধান কারণ দেহে ফ্যাট জমা। চিংড়ি মাছের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৩% নিয়াসিন যা ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনকে এনার্জিতে পরিবর্তন করে এবং দেহে ফ্যাট জমতে বাধা দেয়।
বিষণ্ণতা দূর করে
মাত্র ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে প্রায় ৩৪৭ মিলিগ্রাম ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। গবেষকদের মতে এই ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কে সেরেটেনিন উৎপন্ন করে যা বিষণ্ণতা দূর করতে বিশেষভাবে সহায়ক।

রক্ত স্বল্পতা দূর করতে চিংড়িঃ

চিংড়ী মাছ আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন বা রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে। কারন এতে রয়েছে ভিটামিন বি ১২ । এই ভিটামিন বি ১২ আমাদের শরীরের রক্ত স্বল্পতা দূর করে।

অতিরিক্ত চর্বি কমাতে চিংড়িঃ

চিংড়িতে রয়েছে নিয়াসিন নামক অত্যন্ত উপকারী উপাদান। যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনকে এনার্জিতে রুপান্তরিত করে। ফলে শরীরে চর্বি জমার কোন অভিপ্রায় নেই ও ওজন থাকে সঠিক।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে চিংড়িঃ

নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে হাড়ের ক্ষয় রোধ হয় এবং হাড় মজবুত থাকে। কারন চিংড়ি মাছে রয়েছে ফসফরাস নামক এক বেশেষ সাস্থ্যকর উপাদান।

প্রস্রাবের সমস্যায় চিংড়িঃ

চিংড়ি মাছে রয়েছে জিংক নামক উপাদান। যা আমাদের প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা ও ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। এই জিংক মুত্রথলি সংক্রান্ত ক্যান্সার থেকেও সুরক্ষা করতে পারে।

ডায়বেটিস সারাতে চিংড়িঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে ৮% ম্যাগনেসিয়াম। আর এই ম্যাগনেসিয়াম ডায়বেটিস রোগীদের জন্য একটি আদর্শ উপাদান। ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর এই ম্যাগনেসিয়াম ডায়বেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ উপাদান। নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ সঠিকভাবে বজায় রাখে। ফলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

থাইরয়েডের সমস্যায় চিংড়িঃ

একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চিংড়ি মাছে রয়েছে এর ১০% কপার। যা আমাদের শরীরে হরমোনের মাত্রা সঠিক রাখে ও থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত চিংড়ী মাছ খেলে থাইরয়েড জনিত সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

ত্বকের যত্নে চিংড়িঃ

চিংড়ি মাছে রয়েছে এর ৪২% প্রোটিন। এই প্রোটিন আমাদের শরীরের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে আমাদের ত্বক, চুল এবং নখকে সুন্দর রাখতে যতেষ্ট ভুমিকা রাখে।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতেঃ

চিংড়িতে রয়েছে ভিটামিন বি-১২। এই বিশেষ ভিটামিনটি স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে এবং হৃৎপিণ্ড ভাল থাকে।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ । সত্যের সৈনিক । মোহাম্মদ রেজওয়ান

Leave A Reply

Your email address will not be published.